নিজস্ব প্রতিবেদক | ১ মে ২০২৬
প্যারিস: বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে এক উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে প্যারিসভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স সঁ ফ্রঁতিয়ের (আরএসএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে এখন আর জনসেবা নয়, বরং ক্রমান্বয়ে একটি ‘অপরাধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০০২ সালে ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ প্রকাশ শুরুর পর এই প্রথম বিশ্বের ১৮০টি দেশের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি দেশ ‘কঠিন’ বা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আরএসএফ-এর মতে, এটি বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতার ওপর রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের একটি নজিরবিহীন ইঙ্গিত। সূচকে মাত্র সাতটি দেশ ‘ভালো’ অবস্থানে রয়েছে, যার শীর্ষে রয়েছে নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া।
সূচকে ফ্রান্স ২৫তম স্থানে থেকে ‘সন্তোষজনক’ স্কোর পেলেও, বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ৬৪তম স্থানে নেমে গিয়ে ‘সমস্যাজনক’ অবস্থানে রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশটি র্যাংকিংয়ে সাত ধাপ পিছিয়েছে। আরএসএফ-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আক্রমণকে এক ধরণের নীতিতে পরিণত করেছে, যা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রতিবেদনে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কমার অন্যতম কারণ হিসেবে যুদ্ধ এবং তথ্যপ্রাপ্তিতে বিধিনিষেধ আরোপকে দায়ী করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ২২০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। গাজা, পশ্চিম তীর এবং লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর ক্রমাগত হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে আরএসএফ।
আরএসএফ-এর তথ্যমতে, বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি দেশে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজকে বিভিন্ন আইনের মারপ্যাঁচে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এ তালিকায় ভারত (১৫৭), মিসর (১৬৯), তুরস্ক (১৬৩) ও হংকংয়ের (১৪০) নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যকে বর্তমানে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়া ও ইরান তালিকার একদম তলানির দিকে রয়েছে।
আরএসএফ-এর সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে বলেন, “কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্বল রাজনৈতিক কাঠামো এবং নিয়ন্ত্রণহীন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কারণে তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার এখন ভয়াবহ সংকটে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অদূর ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা একটি বিলুপ্তপ্রায় পেশায় পরিণত হতে পারে।”
তথ্যসূত্র: আরএসএফ (RSF) বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৬, আল জাজিরা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডসিয়ার।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সম্পাদনায়: নিউজ ডেস্ক
বিস্তারিত তথ্যের জন্য:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |