প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন—এক দীর্ঘ ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়েছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই ভূখণ্ড এখন এক নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের সাক্ষী। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়াস চলছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে ভিসা নীতি ও শ্রমবাজারের পরিবর্তনগুলো নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।
বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব এবং ১৯৬৬-এর ছয় দফা ছিল মূলত একটি স্বাধীন ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা। সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ফসল ১৯৭১ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ। গত ৫৪ বছরে দেশ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও ২০২৪-এর পটপরিবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে 'জবাবদিহিতার' নতুন সংস্কৃতি যোগ করেছে। ২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা একদিকে দেখছি প্রবাসীদের সুরক্ষা এবং অন্যদিকে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা জালের সম্প্রসারণ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়সমূহ:
ফ্যামিলি কার্ড: প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে সুরক্ষা দিতে নারী প্রধানদের মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে।
সুরক্ষা ও পুষ্টি: গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্প লাইনকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
ডে-কেয়ার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার: শিল্প কারখানা ও অফিস-আদালতে কর্মরত মায়েদের সুবিধার্থে ডে-কেয়ার সেন্টার ও ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে জোর দিচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নারী ও শিশুরা উন্নয়নের সম-অংশীদার হবে।"
অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের এই ডামাডোলের মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন দূতাবাস। বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) সকালে দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শুধুমাত্র সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য ভিসা ব্যবহার করা অনুমোদিত নয়।
দূতাবাস সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি কেবল এই উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করেন, তবে তা ভিসার শর্তের পরিপন্থি এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা এমন আবেদন প্রত্যাখ্যান করবেন। ভুল তথ্য প্রদান বা শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি থাকলেও ইউরোপের শ্রমবাজারে আশার আলো দেখা দিয়েছে। রোমানিয়া সরকার দেশটিতে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়ে জরুরি অধ্যাদেশ (নং-৩২) জারি করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত এই সুযোগ বলবৎ থাকবে। বুখারেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, যারা বৈধভাবে প্রবেশ করে অনিচ্ছাকৃতভাবে অবৈধ হয়েছিলেন, তারা নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পুনরায় বৈধ হতে পারবেন।
তবে ২০২৬-এর রাজনীতিতে নৈতিকতার বিতর্ক থামছে না। সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে ‘নৈতিক অপরাধের’ অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, নাহিদ ইসলাম নিজে সরাসরি দুর্নীতি না করলেও তার প্রশাসনের ভেতর স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় তিনি এড়াতে পারেন না। বিশেষ করে উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠন করা এবং নির্দিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর অনুদান গ্রহণকে তিনি বড় ধরনের নৈতিক বিচ্যুতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অধিবেশন রিপোর্ট), মার্কিন দূতাবাস ঢাকা (অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি), বাংলাদেশ দূতাবাস (রোমানিয়া), রাশেদ খাঁনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ এবং ১৯০০-২০২৬ ঐতিহাসিক আর্কাইভ।
বিশ্লেষণ: ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই রাজনৈতিক পরিক্রমায় ২০২৬ সালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনবান্ধব নীতি এবং প্রবাসীদের অধিকার আদায়ের লড়াই যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, অন্যদিকে মার্কিন ভিসা নীতির কড়াকড়ি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক পরীক্ষা ২০২৬-এর বাংলাদেশকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |