বাংলাদেশের রাজনীতির ১০০ বছর: ১৯০০-২০২৬ এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পরবর্তী নতুন সমীকরণ
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ কখনো মেঘাচ্ছন্ন, কখনোবা রৌদ্রোজ্জ্বল। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই জনপদ লড়াই করেছে তার অধিকার আর গণতন্ত্রের জন্য। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-২৫ সালের জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—প্রতিটি মোড়ই বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলার রাজনীতির আধুনিক পরিক্রমা শুরু হয় মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ৬-দফা এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল বাঙালির স্বাধীনতার সোপান। দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার পরবর্তী ৫০ বছরে বাংলাদেশ দেখেছে গণতন্ত্রের পুনর্নির্মাণ, সামরিক শাসন এবং দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান সংসদীয় গণতন্ত্রের পথ প্রশস্ত করলেও গত কয়েক দশকে গণতন্ত্রের সংকোচন সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। ফলস্বরূপ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসে।
২০২৪ সালের পট পরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম শেষে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছিল বিশ্ববাসীর প্রবল আগ্রহ। নির্বাচনের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন তাদের পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) গুলশানে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ইইউ প্রতিনিধি দলের প্রধান ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে নির্বাচন পরবর্তী দেশের গণতন্ত্র ও আইনি কাঠামোর সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে ইভার্স ইজাবস জানান, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনটি ছিল "বিশ্বাসযোগ্য এবং দক্ষতার সাথে পরিচালিত"। তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা ১৯টি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সম্বলিত একটি প্রস্তাবনা বিএনপির কাছে পেশ করেছেন। যার মধ্যে ৬টি সুপারিশকে ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সুপারিশগুলো হলো:
নির্বাচনী আইনি কাঠামোর পূর্ণাঙ্গ সংশোধন।
নির্বাচনী প্রচারণায় স্বচ্ছ অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।
সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ সংশোধন করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
ভোট গণনায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়ন।
ডাকযোগে ভোট প্রদানের (পোস্টাল ব্যালট) পরিধি বৃদ্ধি করা।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও মাহদী আমিন।
১৯০০ সাল থেকে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার লড়াই শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা এক নতুন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার অপেক্ষায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইইউ-এর এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা একটি টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভস, ইইউ অবজারভেশন মিশন রিপোর্ট ২০২৬, স্থানীয় রাজনৈতিক সংবাকর্মী।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দীর্ঘ পরিক্রমা এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতাকে তুলে ধরেছে। ১৯০০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহের যোগসূত্র স্থাপনের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে, স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমেই কেবল দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |