আন্তর্জাতিক ডেস্ক: [BDS Bulbul Ahmed]
তারিখ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা ও সচিব জন ফেলান তাঁর পদ ছাড়ছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে জানান, ফেলান ‘তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ছাড়ছেন’। তাঁর স্থলে নৌবাহিনীর বর্তমান আন্ডারসেক্রেটারি (উপসচিব) এবং সাবেক নেভি ক্যাপ্টেন হাং কাও ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
যদিও সরকারি বিবৃতিতে ‘প্রশাসন ছেড়ে যাওয়ার’ কথা বলা হয়েছে, তবে পেন্টাগন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রগুলো বলছে, ফেলানকে আসলে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং তাঁর ডেপুটি স্টিফেন ফিনবার্গের সাথে ফেলানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের তিক্ততায় রূপ নিয়েছিল। জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে বিরোধ এই বরখাস্তের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ও সাবেক মহাকাশচারী মার্ক কেলির একটি ভিডিও বার্তাকে কেন্দ্র করে ফেলানের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল পেন্টাগন নেতৃত্ব। ওই ভিডিওতে কেলি সেনাদের ‘অবৈধ নির্দেশ না মানার’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনায় ফেলান যথেষ্ট কঠোর অবস্থান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা হেগসেথের বিরাগভাজন হওয়ার একটি বড় কারণ।
জন ফেলান একজন ব্যবসায়ী হিসেবে নৌবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং তাঁর কোনো সরাসরি সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না। অন্যদিকে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়া হাং কাও একজন ২৫ বছরের অভিজ্ঞ নেভি কমব্যাট ভেটেরান এবং সাবেক ক্যাপ্টেন। ইরাক, আফগানিস্তান ও সোমালিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে তাঁকে এই পদের জন্য অনেক বেশি ‘উপযুক্ত’ মনে করা হচ্ছে।
এই রদবদলটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন মার্কিন নৌবাহিনী ইরান উপকূল ও হরমুজ প্রণালীতে কঠোর ‘নৌ-অবরোধ’ কার্যকরে ব্যস্ত। আল জাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশারের মতে, এটি একটি নাটকীয় পরিবর্তন। ট্রাম্প প্রশাসনের অবরোধ নীতির ওপর অতি-নির্ভরশীলতার এই সময়ে নৌবাহিনীর নেতৃত্বে এমন পরিবর্তন সামরিক কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ (Editorial Insight): জন ফেলানকে সরিয়ে হাং কাওকে দায়িত্ব দেওয়া মূলত পেন্টাগনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের ‘কট্টরপন্থী’ ও ‘যুদ্ধ-অভিজ্ঞ’ কর্মকর্তাদের প্রভাব বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। ফেলানের মতো ব্যবসায়ী ব্যাকগ্রাউন্ডের চেয়ে যুদ্ধের ময়দান থেকে আসা হাং কাও এখন নৌবাহিনীর অপারেশনাল সিদ্ধান্তগুলোতে অনেক বেশি কঠোরতা দেখাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সাথে চলমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |