| বঙ্গাব্দ

রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল | নতুন তারিখ ১৮ মে ২০২৬।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-04-2026 ইং
  • 658793 বার পঠিত
রিজার্ভ চুরি মামলার প্রতিবেদন দাখিল ফের পেছাল | নতুন তারিখ ১৮ মে ২০২৬।
ছবির ক্যাপশন: রিজার্ভ চুরি

রিজার্ভ চুরি মামলা: ১০ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত, প্রতিবেদন দাখিলের সময় ফের পেছাল

ব্যাংকিং ও আদালত প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও ফিন্যান্সিয়াল এনালিস্ট)

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। গত এক দশক ধরে দফায় দফায় সময় নেওয়ার পর এবার তদন্ত সংস্থা সিআইডিকে আগামী ১৮ মে পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মামলার প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও সিআইডি তা জমা না দেওয়ায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

১. ২০১৬ থেকে ২০২৬: বিচারহীনতার এক দশক

২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার (তৎকালীন প্রায় ৮০০ কোটি টাকা) চুরি করা হয়। হ্যাকাররা কৌশলে এই অর্থ ফিলিপাইনে সরিয়ে নেয়। এই ঘটনায় একই বছরের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করা হলেও আজও তার কূলকিনারা হয়নি।

২. তদন্তের বর্তমান চিত্র ও সিআইডির ভূমিকা

মামলাটি বর্তমানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি প্রভাবশালী চক্রের সহায়তায় এই অর্থ পাচার করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ এক দশকেও এই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতে বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে সিআইডি ব্যর্থ হওয়ায় জনমনে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

৩. মামলার আইনি প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও তথ্য-প্রযুক্তি আইনে এই মামলাটি করেছিলেন। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী তদন্তাধীন মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে একটি সাইবার চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ১০ বছরেও দাখিল না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এই দীর্ঘসূত্রিতা কেবল চোরদের আড়াল করছে না, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের সাইবার নিরাপত্তা ও বিচারিক সক্ষমতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। রিজার্ভের যে অর্থ এখনো উদ্ধার করা যায়নি, এই ধীরগতির তদন্তের ফলে তা পাওয়ার আশাও ফিকে হয়ে যাচ্ছে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যখন স্মার্ট ইকোনমির কথা বলছি, তখন এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি আমাদের আর্থিক খাতের জন্য এক বড় বিষফোঁড়া।


রিজার্ভ চুরি মামলা: ফ্যাক্ট ফাইল (২০১৬-২০২৬)

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত বিবরণ
ঘটনার তারিখ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬।
চুরির পরিমাণ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার।
তদন্ত সংস্থাসিআইডি (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ)।
মামলার ধারামানি লন্ডারিং ও তথ্য-প্রযুক্তি আইন।
পরবর্তী তারিখ১৮ মে ২০২৬।
চুরির রুটযুক্তরাষ্ট্রের ফেড থেকে ফিলিপাইন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency