| বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সংকটে পোশাক উৎপাদন ৫০% হ্রাস | ডিসিসিআই-এর জরুরি প্রতিবেদন।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-04-2026 ইং
  • 2570547 বার পঠিত
জ্বালানি সংকটে পোশাক উৎপাদন ৫০% হ্রাস | ডিসিসিআই-এর জরুরি প্রতিবেদন।
ছবির ক্যাপশন: পোশাক উৎপাদন

জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে শিল্প খাত: পোশাক উৎপাদন কমেছে ৫০%, বাড়ছে সব পণ্যের দাম

অর্থনীতি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও মার্কেট এনালিস্ট)

ঢাকা, ১০ এপ্রিল ২০২৬: বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত তৈরি পোশাক খাতসহ সামগ্রিক শিল্প খাত এখন তীব্র জ্বালানি সংকটের কবলে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানান, গ্যাস সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক লজিস্টিক খরচ ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে শিল্প উদ্যোক্তারা এখন বহুমাত্রিক চাপে রয়েছেন।

১. সিমেন্ট, স্টিল ও ওষুধ শিল্পে ব্যয়ের বোঝা

জ্বালানি ও লজিস্টিক সংকটের প্রভাব কেবল পোশাকে সীমাবদ্ধ নেই:

  • সিমেন্ট: উৎপাদন ব্যয় প্রতি ব্যাগে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে।

  • স্টিল: স্ক্র্যাপের মূল্য টন প্রতি ৭০ থেকে ৯০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • ওষুধ: উৎপাদন উপকরণের ব্যয় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে।

  • পরিবহন: কনটেইনার ফ্রেইট চার্জ ২০-৪০% বৃদ্ধি পাওয়ায় কনটেইনার প্রতি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।

২. জনজীবনে নাভিশ্বাস ও কৃষি সংকট

ডিসিসিআই সভাপতি জানান, গ্রামে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে এবং শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তাদের আয়ের ২২ শতাংশ কেবল জ্বালানি খাতেই ব্যয় করতে হচ্ছে। কৃষি খাতে ডিজেল ও সারের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধির ফলে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কোল্ড চেইন ব্যবস্থার অভাবে ৩০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

৩. উত্তরণের পথ: ঢাকা চেম্বারের সুপারিশ

সংকট মোকাবিলায় ডিসিসিআই বেশ কিছু তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশ করেছে:

  • জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ: মালয়েশিয়া বা ব্রুনাইয়ের মতো দেশের সাথে জিটুজি (G2G) চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি নিশ্চিত করা এবং ৯০-১৮০ দিনের ডিফার্ড পেমেন্ট (বিলম্বে পরিশোধ) সুবিধা নেওয়া।

  • কৃষিতে ভর্তুকি: ডিজেল ও সারের দাম সহনীয় রাখতে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি প্রদান।

  • সাশ্রয়ী পদক্ষেপ: দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করা।

  • ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনা: ‘ফোর্স মেজিউর’ প্রয়োগ করে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ পুনর্বিবেচনা করা।

  • অবকাঠামো সংস্কার: তিতাস ও বাখরাবাদের পুরনো পাইপলাইন সংস্কার করে সিস্টেম লস কমানো।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ২০২৬ সালের এই অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি বাংলাদেশের মতো আমদানি-নির্ভর অর্থনীতির জন্য একটি বড় ‘ওয়েক-আপ কল’। ঢাকা চেম্বারের এই সতর্কবার্তা ইঙ্গিত দেয় যে, অবিলম্বে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে রপ্তানি আয়ে বড় ধরণের ধস নামতে পারে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যখন স্মার্ট ইকোনমির দিকে এগোচ্ছি, তখন এই অবকাঠামোগত সংকট নিরসনই হবে প্রধান চ্যালেঞ্জ।


শিল্প ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব: এক নজরে (এপ্রিল ২০২৬)

খাতের নামবর্তমান পরিস্থিতি / প্রভাব
তৈরি পোশাকউৎপাদন সক্ষমতা ৫০% কমে গেছে।
সিমেন্ট শিল্পপ্রতি ব্যাগে খরচ বেড়েছে ২৫-৩০ টাকা।
পরিবহন ব্যয়ফ্রেইট চার্জ ২০-৪০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডারমূল্য ৯০০ থেকে বেড়ে ১,৮৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কৃষি খাতসারের ব্যয় বৃদ্ধি প্রায় ৯০%।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency