আন্তর্জাতিক ডেস্ক | এএফপি
সর্বশেষ আপডেট: ১৩ জুলাই, ২০২৬
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ হিসেবে বিশ্বরাজনীতির শীর্ষ ১৩ জন বিদেশি নেতাকে টার্গেট করা হতে পারে—এমন একটি চাঞ্চল্যকর ‘হিটলিস্ট’ বা তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও রক্ষণশীল দৈনিক হামশাহরি (Hamshahri)। তেহরান সিটি কর্তৃপক্ষ দ্বারা পরিচালিত এই পত্রিকার প্রকাশিত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইউরোপের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ক্ষমতাধর নেতার নাম ও ছবি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি (AFP)-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রথম দিন তেহরানে মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তার এই মৃত্যুর পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি (Mojtaba Khamenei) সরাসরি শত্রুরাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গত শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) এক বিশেষ বার্তায় মোজতবা খামেনি পশ্চিমাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন:
"প্রতিশোধ আমাদের সমগ্র ইরানি জাতির তীব্র ইচ্ছা এবং তা অবশ্যই সুনিশ্চিতভাবে বাস্তবায়িত হবে। যাদের নাম এই তালিকায় রয়েছে, তারা কোনোদিন শান্তিপূর্ণ মৃত্যুর আশা নিয়ে কবরে যেতে পারবে না।"
মোজতবা খামেনি নিজের মুখে সরাসরি কারও নাম উচ্চারণ না করলেও, তার এই বার্তার ঠিক পরপরই তেহরান সিটি কর্তৃপক্ষের মুখপত্র ‘হামশাহরি’ তাদের অনলাইন সংস্করণে একটি বিশেষ ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করে। সেখানে মোজতবা খামেনির বক্তব্যের ঠিক নিচে বিশ্বের প্রভাবশালী ১৩ জন নেতার ছবি ও প্রোফাইল যুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে এই তালিকাটি ইরান সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত কি না, তা এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হামশাহরি পত্রিকার প্রকাশিত সেই বিতর্কিত তালিকায় থাকা প্রধান প্রধান বিশ্বনেতারা হলেন:
ডোনাল্ড ট্রাম্প: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী।
কিয়ের স্টারমার: যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।
জর্জিয়া মেলোনি: ইতালির প্রধানমন্ত্রী।
ফ্রিডরিশ মেরৎস: জার্মানির চ্যান্সেলর।
মার্কো রুবিও: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
পিট হেগসেথ: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চলাকালে শুরু থেকেই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ওপর চরম ক্ষুব্ধ ছিল তেহরান। ইরানের অভিযোগ, মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনী যখন ইরানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে তাদের ভূখণ্ডে একের পর এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছিল, তখন ইউরোপীয় দেশগুলো তার তীব্র নিন্দা জানাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
একই সঙ্গে তেহরান আরও অভিযোগ তুলেছে যে, ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ফাইটার জেট ও বোমারু বিমানগুলোকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর জন্য নিজেদের দেশের আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সরাসরি মার্কিন-ইসরাইলি জোটের ‘হামলার সহযোগী’ বা অংশীদার হিসেবে কাজ করেছে। আর এই কারণেই ইউরোপের শীর্ষ নেতাদেরও খামেনি হত্যার প্রতিশোধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |