আদালত ও রাজনীতি প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও মুভমেন্ট এনালিস্ট)
ঢাকা, ৮ এপ্রিল ২০২৬: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশ করায় অধস্তন আদালতের ২৮ জন বিচারককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এই চিঠি পাঠানো হয়। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
জানা গেছে, অভিযুক্ত বিচারকরা একটি অভ্যন্তরীণ গ্রুপে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনার স্ক্রিনশট ফাঁসের সূত্র ধরেই আইন মন্ত্রণালয় তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পদক্ষেপ নেয়। মন্ত্রণালয়ের মতে, বিচারকদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড শৃঙ্খলা পরিপন্থী। তবে হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, এটি বিচারকদের গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশকেও অনিরাপদ করে তুলেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এমপি ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “স্ক্রিনশট নিয়ে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া স্পষ্টভাবে একটা ভয় দেখানোর চেষ্টা। বার্তাটা খুব পরিষ্কার— ‘চুপ থাকুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন’।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ৫ আগস্টের পর যে মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আবার ধীরে ধীরে ভয়ের ছায়ায় ঢাকা পড়ছে।
হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে সতর্ক করে বলেন, এটি কোনো ব্যক্তির বিষয় নয়, বরং পুরো সিস্টেমের বিষয়। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগে যদি এ ধরনের চাপ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার জায়গাটাও দুর্বল হয়ে যায়। বিচারকদের কণ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করলে শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতিপূরণ পুরো দেশকেই দিতে হবে।” তিনি সরকারকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
২০২৬ সালের এই সন্ধিক্ষণে, যখন রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি তুঙ্গে, তখন বিচারকদের ওপর এ ধরনের প্রশাসনিক চাপকে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে বলেন, “বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে শক্তিশালী করা যায় না, বরং দুর্বল করে ফেলা হয়।”
বিডিএস অ্যানালাইসিস: বিচারকদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা যদি শাস্তির কারণ হয়, তবে বিচার বিভাগে এক ধরণের ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্ব-আরোপিত নীরবতা নেমে আসবে। এটি ২০২৬ সালের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা। হাসনাত আবদুল্লাহর এই প্রতিবাদ প্রমাণ করে যে, ক্ষমতাসীন জোটের ভেতরেও রাষ্ট্র সংস্কারের পদ্ধতি নিয়ে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যখন বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার কথা বলছি, তখন এই শোকজ নোটিশটি সেই লক্ষ্য থেকে আমাদের পিছিয়ে দিচ্ছে।
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| মোট বিচারক সংখ্যা | ২৮ জন (অধস্তন আদালত)। |
| অভিযোগ | বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে মতামত প্রকাশ। |
| সরকারের পদক্ষেপ | ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ। |
| হাসনাত আবদুল্লাহর অবস্থান | তীব্র প্রতিবাদ ও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান। |
| মূল উদ্বেগ | বিচারকদের বাক-স্বাধীনতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |