গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত জোটের আলটিমেটাম: সারা দেশে ৭ দিনের রাজপথের কর্মসূচি
রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )
ঢাকা, ৭ এপ্রিল ২০২৬: জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী সাত দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। একই সাথে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না।
মাওলানা মামুনুল হক ঘোষিত কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জনমত গঠন এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
কর্মসূচির সূচি: ৯ এপ্রিল শাহবাগে উদ্বোধনের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ শুরু হবে, যা চলবে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। ১১ এপ্রিল সব মহানগরীতে এবং ১২ এপ্রিল জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার।
কর্মসূচি ঘোষণার আগে সকালে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও এনসিপি-র সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা বর্তমান জ্বালানি সংকট (তেলের দাম বৃদ্ধি) এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের ‘শিথিলতা’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সারজিস আলম এর আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, রাজপথে নামা ছাড়া আর বিকল্প নেই (যেমনটি আমরা গতকালের সংবাদ সম্মেলনে দেখেছি)।
এই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, এবি পার্টির আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাগপা-র রাশেদ প্রধানের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বিকল্প রাজনৈতিক ব্লক তৈরি হচ্ছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা যখন সংসদে স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াকু ভাষণ দিচ্ছেন (যেমনটি আজ দেখা গেছে), তখন মাঠের রাজনীতিতে এই ১১-দলীয় জোট নিজেদের ‘আসল সংস্কারবাদী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
১৯৬৯ বা ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এই জোট দাবি করছে যে, ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত গণভোটের রায়ই হবে রাষ্ট্র সংস্কারের মূল ভিত্তি। মাওলানা মামুনুল হকের মতে, “জনগণ যে পরিবর্তন চেয়েছে, তা সংবিধানে প্রতিফলিত করতে হবে।”
বিডিএস অ্যানালাইসিস: ২০২৬ সালের এই বসন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক কঠিন সময়। একদিকে ট্রাম্পের আলটিমেটাম ও তেলের বাজারের আগুন, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গণভোটের রায় নিয়ে জামায়াত জোটের এই কঠোর অবস্থান—সব মিলিয়ে বিএনপি সরকার এক ত্রিমুখী চাপে রয়েছে। ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কর্মসূচি যদি সফল হয়, তবে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্র নতুন করে আঁকা হতে পারে। ‘এক পা এক পা’ করে আমরা যে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছিলাম, এই কর্মসূচি তাকে নতুন পরীক্ষার মুখে ফেলবে।
| তারিখ | কর্মসূচির ধরণ | স্থান / এলাকা |
| ০৯ এপ্রিল | উদ্বোধন ও লিফলেট বিতরণ | শাহবাগ, ঢাকা (শুরু)। |
| ০৯ - ১৫ এপ্রিল | দেশব্যাপী গণসংযোগ | সারা দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়। |
| ১১ এপ্রিল | বিক্ষোভ সমাবেশ | দেশের সকল মহানগরীতে। |
| ১২ এপ্রিল | বিক্ষোভ মিছিল | দেশের সকল জেলা সদরে। |
| ১৩ এপ্রিল | জাতীয় সেমিনার | ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, কাকরাইল। |
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |