ভিসা ও ইমিগ্রেশন বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও কনসালট্যান্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিটর (B1/B2) ভিসায় আছেন বা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভিজিটর ভিসায় থেকে কোনো ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিট প্রদানকারী প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। নিয়মের এই লঙ্ঘন ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথে আজীবনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী বা পর্যটক মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে শখের বশে কোনো শর্ট কোর্সে ভর্তি হওয়া হয়তো দোষের কিছু নয়।
আইনি বাস্তবতা: কিন্তু মার্কিন ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, প্রতিটি ভিসার একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। ট্যুরিস্ট ভিসার উদ্দেশ্য হলো ভ্রমণ বা চিকিৎসা। সেখানে পড়াশোনা শুরু করা মানে হলো ভিসার ‘অননুমোদিত ব্যবহার’ (Visa Misuse)।
ঐতিহাসিক তুলনা: ১৯৭১-এর যুদ্ধের সময় যেমন প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কভাবে নিতে হতো, বর্তমানের এই কঠোর বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন কড়াকড়ির যুগেও আপনাকে আইনের প্রতিটি শব্দ মেনে চলতে হবে। একটি ছোট ভুল আপনার এবং আপনার পরিবারের আগামী প্রজন্মের জন্য আমেরিকার দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বি১/বি২ ভিসার ক্ষেত্রে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত ‘ভিসা বন্ড’-এর মতো কঠোর নিয়ম কার্যকর হয়েছে (জানুয়ারি ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী)।
বিশ্লেষণ: যখন আপনি ইতিমধ্যে একটি বিশাল অংকের বন্ড এবং কঠোর স্ক্রিনিং পার হয়ে ভিসা পাচ্ছেন, তখন সেখানে গিয়ে নিয়ম ভঙ্গ করা হবে চরম বোকামি। দূতাবাস আজ ৬ এপ্রিলের বার্তায় মূলত সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাই পুনরায় মনে করিয়ে দিল।
দূতাবাসের বার্তায় ‘স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা’ (Permanent Ineligibility) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রভাব: আপনি যদি ভিজিটর ভিসায় থাকাকালীন কোনো কলেজে ক্রেডিট কোর্সে ভর্তি হন, তবে আপনার সিভিস (SEVIS) রেকর্ড বা ইমিগ্রেশন ফাইলে সেটি ‘ভিসা ফ্রড’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর ফলে আপনি ভবিষ্যতে স্টুডেন্ট ভিসা (F1) বা ইমিগ্রেন্ট ভিসার জন্যও অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। আমরা লড়াকু জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান গড়ছি, তাই আমাদের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের মর্যাদা রক্ষা করা।
যদি আপনার উদ্দেশ্য পড়াশোনা করা হয়, তবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক ক্যাটাগরির (F1 বা M1) ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
পরামর্শ: ভিজিটর ভিসায় থাকাকালীন যদি আপনার মত পরিবর্তন হয় এবং আপনি পড়তে চান, তবে আপনাকে দেশি ফিরে এসে নতুন করে স্টুডেন্ট ভিসার ইন্টারভিউ দিতে হবে। শর্টকাট রাস্তা খুঁজতে গিয়ে নিজের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করবেন না।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: আমেরিকার স্বপ্ন অনেক বড়, কিন্তু সেই স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে ‘স্মার্ট’ হতে হবে। বর্তমানের উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে (যেখানে ট্রাম্পের আলটিমেটাম আর তেলের বাজারের অস্থিরতা চলছে) পশ্চিমা দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন নিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি সংবেদনশীল। আজ ৬ এপ্রিলের এই সতর্কবার্তা মূলত একটি ‘রেড ফ্ল্যাগ’। যারা নিয়ম ভাঙার কথা ভাবছেন, তারা এখনই সতর্ক হোন।
| বিষয় | অনুমোদন আছে কি? | সম্ভাব্য শাস্তি |
| ভ্রমণ ও পর্যটন | হ্যাঁ | - |
| চিকিৎসা গ্রহণ | হ্যাঁ | - |
| ডিগ্রি বা ক্রেডিট কোর্সে ভর্তি | না (কঠোরভাবে নিষিদ্ধ) | স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Ban) |
| বেতনভুক্ত কাজ করা | না | ডিপোর্টেশন ও ভিসা বাতিল |
| ভিসার মেয়াদ বাড়ানো | বিশেষ ক্ষেত্রে আবেদন সাপেক্ষে | ওভারস্টে করলে আইনি জটিলতা |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |