সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: গত ৩ এপ্রিল ইরানের আইআরজিসি (IRGC) যখন মার্কিন এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ইগল ভূপাতিত করে, তখন অনেকেই ভেবেছিলেন এটি হবে আমেরিকার জন্য এক বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি। কিন্তু রোববারের (৫ এপ্রিল) সফল উদ্ধার অভিযান সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছে। দ্বিতীয় ক্রুকে ইরানের অভ্যন্তর থেকে জীবিত উদ্ধার করার পর নেতানিয়াহুর অভিনন্দন বার্তা প্রমাণ করে—মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইসরায়েল-ইউএস’ জোট এখন যেকোনো দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত।
নেতানিয়াহু তাঁর ভাষণে অতীতে ইসরায়েলি কমান্ডোদের বীরত্বের কথা স্মরণ করেছেন।
ঐতিহাসিক তুলনা: এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৭৬ সালের বিখ্যাত ‘অপারেশন এন্টেবে’-র কথা, যেখানে ইসরায়েলি কমান্ডোরা উগান্ডায় ঢুকে তাদের জিম্মিদের উদ্ধার করেছিল। আজ ২০২৬-এ আমেরিকার স্পেশাল ফোর্সের এই অপারেশন প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির চেয়েও ‘কমান্ডো স্পিরিট’ ও ‘কাউকে পেছনে ফেলে না আসার’ (Leave No One Behind) সামরিক আদর্শটি এখনো অটুট। এটি ইরানের মতো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পন্ন দেশের জন্য এক বড় অপমানজনক হার।
বিদেশের মাটিতে বা শত্রুর সীমানায় ঢুকে অপারেশন চালানো কতটা সাহসের, তা আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেখেছি।
বিবর্তনের ধারা: ১৯৭১ সালের ‘অপারেশন জ্যাকপট’-এ আমাদের নৌ-কমান্ডোরা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বন্দরে ঢুকে পাকিস্তানি জাহাজ ধ্বংস করেছিল, আজকের মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের ইরানে প্রবেশ করে পাইলট উদ্ধারের ঘটনাটি সমরকৌশলের দিক থেকে একই রকম দুঃসাহসিক। তবে আধুনিক যুগে এটি আরও কঠিন, কারণ এখানে স্যাটেলাইট এবং ড্রোনের নজরদারি এড়িয়ে অপারেশন করতে হয়েছে।
নেতানিয়াহু যখন বলেন “সব ইসরাইলি আনন্দিত”, তখন এর অর্থ দাঁড়ায়—ইসরায়েল এই যুদ্ধে কেবল দর্শক নয়, তারা সক্রিয় অংশীদার।
ব্যক্তিত্বের তুলনা: ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই রসায়ন আমাদের মনে করিয়ে দেয় স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার সেই কঠিন নেতৃত্বের কথা। ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেওয়ার হুমকি আর নেতানিয়াহুর এই কৌশলগত সমর্থন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের ওপর বড় ধরনের স্থল অভিযানের (Ground Strike) ব্লু-প্রিন্ট হয়তো ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে।
পাইলট উদ্ধারের সফলতায় মার্কিন মনোবল তুঙ্গে থাকলেও তেলের বাজার কিন্তু ১১০ ডলার ছাড়িয়ে অস্থির।
বিশ্লেষণ: ইরান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা কলেজের প্রধান মাসউদ জারেই-এর মৃত্যু এবং এই সফল উদ্ধার অভিযানের প্রতিশোধ নিতে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। পাইলট উদ্ধারের খবর আসার পরপরই তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে, বাজার এখন কোনো ছোট বিজয়ে শান্ত হবে না; বরং এটি বড় ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা করছে।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: পাইলট উদ্ধার করা আমেরিকার জন্য এক বিশাল নৈতিক জয় (Moral Victory)। যদি ওই পাইলট ইরানের হাতে বন্দি হতেন, তবে ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগ’ তত্ত্বটি মুখ থুবড়ে পড়ত এবং ইরান তাকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করত। নেতানিয়াহুর এই অভিনন্দন মূলত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ পরবর্তী সেই শক্তিশালী সামরিক অক্ষের বহিঃপ্রকাশ, যা ইরানকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
| তারিখ | ঘটনা | ফলাফল |
| ০৩ এপ্রিল | ইরানের আইআরজিসি কর্তৃক বিমান ভূপাতিত। | ১ জন ক্রু তাৎক্ষণিক উদ্ধার, ২য় জন নিখোঁজ। |
| ০৫ এপ্রিল | ইরানি সীমানায় ঢুকে ২য় ক্রু উদ্ধার। | মার্কিন সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ। |
| ০৫ এপ্রিল | নেতানিয়াহুর অভিনন্দন ও ভিডিও বার্তা। | ইসরায়েল-ইউএস জোটের ঐক্যের বার্তা। |
| ০৬ এপ্রিল | তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়ালো। | মনস্তাত্ত্বিক জয় বনাম অর্থনৈতিক পরাজয়। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |