| বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: জরুরি তেল ও এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 05-04-2026 ইং
  • 339274 বার পঠিত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট: জরুরি তেল ও এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ।
ছবির ক্যাপশন: ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট

ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট: জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ টন ডিজেল ও এলএনজি কিনছে সরকার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও এনার্জি এনালিস্ট)

ঢাকা, ৫ এপ্রিল ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ১ লাখ টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি (LNG) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

১. ডিজেল আমদানি: কাজাখস্তানের সাথে সরাসরি চুক্তি

সরকার সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তেল কিনলেও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ‘সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি’ (Direct Procurement) অনুসরণ করছে।

  • সরবরাহকারী: কাজাখস্তানভিত্তিক ‘কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি’।

  • পরিমাণ ও মান: ১ লাখ টন ৫০ পিপিএম সালফারমান সম্পন্ন ডিজেল।

  • ব্যয়: প্রতি ব্যারেল ৭৫.০৬ ডলার হিসেবে মোট খরচ প্রায় ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা (৫ কোটি ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার)।

২. এলএনজি সংকট ও চড়া মূল্য

জ্বালানি সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজি-র দাম আকাশচুম্বী। সরকার সিঙ্গাপুরের ‘আরামকো ট্রেডিং’ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

  • দাম: প্রতি এমএমবিটিইউ (MMBtu) ১৯ ডলারের বেশি, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

  • মোট ব্যয়: দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে খরচ হবে প্রায় ১,৫৬০ কোটি টাকা।

৩. কেন এই জরুরি পদক্ষেপ?

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের ৩৫তম দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

  • রিজার্ভ সুরক্ষা: বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে ব্যাংকিং সময় কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই আগাম কেনাকাটা মূলত আসন্ন মাসগুলোতে লোডশেডিং কমানো এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থা সচল রাখার একটি কৌশল।

  • মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: জ্বালানি তেলের সংকট হলে পরিবহন খরচ বেড়ে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এই ১ লাখ টন ডিজেল সাময়িকভাবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে।

বিডিএস অ্যানালাইসিস: ১৯ ডলারে এলএনজি কেনা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বেশ ব্যয়বহুল, কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সরবরাহ নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। কাজাখস্তানের মতো বিকল্প উৎস থেকে ডিজেল কেনা একটি বুদ্ধিদীপ্ত কূটনৈতিক চাল। তবে মনে রাখতে হবে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল এই আমদানিতে সংকট কাটবে না; বরং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সাশ্রয় নীতি অনুসরণ করতে হবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর নেতৃত্বে এই ‘ভার্চুয়াল বৈঠক’ প্রমাণ করে যে, সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।


জ্বালানি আমদানির জরুরি হিসাব (এক নজরে)

জ্বালানির ধরণপরিমাণসরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানআনুমানিক ব্যয়
ডিজেল১,০০,০০০ টনকাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট৬৮৯.২৯ কোটি টাকা
এলএনজি২ কার্গোআরামকো ট্রেডিং, সিঙ্গাপুর১,৫৬০.০০ কোটি টাকা
মোট ব্যয়----২,২৪৯.২৯ কোটি টাকা

তথ্যসূত্র (Sources):

১. সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি: ৪ এপ্রিল ২০২৬-এর বৈঠকের কার্যবিবরণী।

২. অর্থ মন্ত্রণালয়: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রেস ব্রিফিং।

৩. বিডিএস ইকোনমিক আর্কাইভ: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব বিশ্লেষণ।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency