| বঙ্গাব্দ

সয়াবিন তেলের বাজারে ৫-৬ কোম্পানির সিন্ডিকেট | ঈদের পর কৃত্রিম সংকট।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-04-2026 ইং
  • 1267402 বার পঠিত
সয়াবিন তেলের বাজারে ৫-৬ কোম্পানির সিন্ডিকেট | ঈদের পর কৃত্রিম সংকট।
ছবির ক্যাপশন: সয়াবিন তেলে

ভোজ্যতেলের বাজারে ‘ঈদোত্তর’ কারসাজি: ৫-৬ কোম্পানির সিন্ডিকেটে জিম্মি সাধারণ ক্রেতা

বাজার ও অর্থনীতি বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট )

ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে ভোজ্যতেলের বাজারকে অস্থির করতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ৫ থেকে ৬টি প্রভাবশালী কোম্পানির সিন্ডিকেট। রাজধানীর মালিবাগ, বাড্ডা, কারওয়ান বাজার এবং নয়াবাজারের খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ—কোম্পানিগুলো পরিকল্পিতভাবে ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই—কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সয়াবিন তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানো।

১. মন্ত্রীর আশ্বাস বনাম বাজারের বাস্তবতা

সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছিলেন যে, বাজারে ১ লাখ ৭০ হাজার টন তেলের মজুত আছে এবং পাইপলাইনে আরও ৩ লাখ ৬০ হাজার টন রয়েছে। কিন্তু মন্ত্রীর এই পরিসংখ্যানের সাথে বাজারের বাস্তব চিত্র মিলছে না।

  • সরবরাহ ঘাটতি: খুচরা বিক্রেতারা ২০ কার্টন তেলের চাহিদা দিলে ডিলাররা সরবরাহ করছে মাত্র ২-৪ কার্টন।

  • ৫ লিটারের উধাও: রাজধানীর বাড্ডা ও নয়াবাজারের অধিকাংশ দোকানে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল কার্যত উধাও হয়ে গেছে।

  • খোলা তেলের কারসাজি: বোতলজাত তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৩০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

২. ঐতিহাসিক তুলনা: তেলের বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ ও ওয়ান-ইলেভেনের স্মৃতি

ভোজ্যতেল নিয়ে এই ধরনের লুকোচুরি খেলা বাংলাদেশের মানুষের কাছে নতুন নয়।

  • ২০২২-২৩ সালের সংকট: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা যেভাবে রাতারাতি দাম বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক সেই পথেই হাঁটছে।

  • তুলনা: অতীতে ওয়ান-ইলেভেনের সময় বা বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীরা সরকারকে চাপে ফেলতে এই ‘সরবরাহ বন্ধ’ করার কৌশল নিতেন। ২০২৬ সালেও নবগঠিত বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলে নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য এই ৫-৬টি কোম্পানি একই পুরনো ফর্মুলা ব্যবহার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৩. খুচরা বিক্রেতাদের ক্ষোভ ও ডিলারদের ভূমিকা

মালিবাগের ব্যবসায়ী আল আমিন এবং নয়াবাজারের তুহিনের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন বিপাকে। তাদের অভিযোগ, ডিলাররা আগেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে তাদের লাভের গুড় এখন সিন্ডিকেটের পকেটে যাচ্ছে। ক্যাব (CAB) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন মনে করেন, সরকারের তদারকি সংস্থার দুর্বলতার সুযোগেই কোম্পানিগুলো সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস পাচ্ছে।

বিডিএস অ্যানালাইসিস: ভোজ্যতেল রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশন ‘পরিবহন সংকট’—এর যে অজুহাত দিচ্ছে, তা মূলত একটি অজুহাত মাত্র। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল, তখন বাংলাদেশে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া স্পষ্টতই একটি কৃত্রিম সংকট। এটি মূলত সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করে চড়া দাম আদায়ের একটি বাণিজ্যিক যুদ্ধ।


ভোজ্যতেল বাজারের বর্তমান অস্থিরতার চিত্র:

নির্দেশকবর্তমান অবস্থাপ্রভাব
সরবরাহচাহিদার মাত্র ১০-২০%বাজারে হাহাকার সৃষ্টি।
৫ লিটার বোতলনেই বললেই চলেবড় পরিবারগুলোর ভোগান্তি।
খোলা সয়াবিনলিটারে ৩০ টাকা বৃদ্ধিদরিদ্র ক্রেতাদের ওপর বাড়তি চাপ।
কোম্পানির কৌশলডিলারদের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকটঈদের পর দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা।
তদারকিখুচরা পর্যায়ে অভিযানমূল হোতারা (কোম্পানি) রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

৪. কেন ২০২৬-এর এই সংকট সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ?

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই তাদের জন্য প্রথম বড় বাজার চ্যালেঞ্জ। যদি এই ৫-৬টি কোম্পানির সিন্ডিকেট ভাঙা না যায়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে। ১৯৭৪-এর সেই কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের ইতিহাসের মতো অসাধু ব্যবসায়ীরা যখন পণ্য মজুত করে, তখন রাষ্ট্রকে কঠোর হস্তে তা দমন করতে হয়।

উপসংহার: তদারকি দরকার উৎপাদকের গুদামে, মুদি দোকানে নয়

সাধারণ মুদি দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেই তেলের বাজার স্থিতিশীল হবে না। সিন্ডিকেটের মূল উৎস যেখানে—অর্থাৎ বড় বড় ৫-৬টি কোম্পানির তেল রিফাইনারি ও প্রধান ডিলার পয়েন্টে সেনাসদস্য বা তদারকি সংস্থার কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। জনগণের পকেট কেটে যারা উৎসবের মৌসুমে লুটতরাজ চালায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বা ‘নতুন বাংলাদেশ’—এর স্লোগান কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency