| বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড বিলের নিন্দা রাশিদা তালিবের | ইসরাইলি বর্ণবাদ ২০২৬।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-03-2026 ইং
  • 1181776 বার পঠিত
ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড বিলের নিন্দা রাশিদা তালিবের | ইসরাইলি বর্ণবাদ ২০২৬।
ছবির ক্যাপশন: ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড

ফিলিস্তিনিদের ফাঁসিতে ঝোলানো বর্ণবাদের নামান্তর’: ইসরাইলি মৃত্যুদণ্ড বিলের তীব্র নিন্দা রাশিদা তালিবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও হিউম্যান রাইটস এনালিস্ট)

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য মৃত্যুদণ্ড বাধ্যতামূলক করার লক্ষ্যে ইসরাইলের প্রস্তাবিত একটি বিতর্কিত বিলের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব। তিনি এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান ‘গণহত্যার পরবর্তী ধাপ’ এবং একটি চরম বর্ণবাদী কাজ বলে অভিহিত করেছেন। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ ২০২৬) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

১. ‘গণমৃত্যুদণ্ড’ ও বর্ণবাদের অভিযোগ

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশিদা তালিব বলেন, “সম্পূর্ণ জাতিগত ভিত্তিতে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে এই গণমৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা বর্ণবাদেরই নামান্তর।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফিলিস্তিনিরা ইতোমধ্যেই ইসরাইলি কারাগারগুলোতে পদ্ধতিগতভাবে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, আর এই বিল সেই জুলুমকে আইনি রূপ দেওয়ার একটি অপচেষ্টা।

২. বিলের ভয়াবহ দিকসমূহ: আপিলের সুযোগও বন্ধ

ইসরাইলের অতি-ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের সমর্থিত এই বিলে ফিলিস্তিনিদের জন্য বিচারব্যবস্থাকে একতরফা করে তোলা হয়েছে:

  • সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা: প্রসিকিউশনের অনুরোধ ছাড়াই এবং বিচারকদের সর্বসম্মতিক্রমে না হয়ে কেবল সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে।

  • আপিল ও ক্ষমা নেই: এই বিলের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ক্ষমা চাওয়া বা উচ্চ আদালতে আপিল করার পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

  • দ্বিমুখী নীতি: ইসরাইলের অভ্যন্তরে যাদের বিচার হবে তাদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবনের সুযোগ থাকলেও, অধিকৃত অঞ্চলের ফিলিস্তিনিদের জন্য সেই সুযোগ থাকছে না।

আরও পড়ুন: ইরানে মার্কিন স্থল হামলা হলে লড়বে চেচেন আর্মি: কাদিরভের ঘোষণা।

৩. মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইসরাইলি কারাগারে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে:

  • গাজার বন্দিদের অবস্থা: গাজা থেকে আটককৃতদের ওপর অনাহার, যৌন সহিংসতা এবং পদ্ধতিগতভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

  • সামরিক আদালতের ক্ষমতা: পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের বিচারকারী সামরিক আদালতগুলোকেও এখন এই মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অবাধ ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।

উপসংহার: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা বনাম প্রতিবাদ

ইতামার বেন-গ্যভির একে ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে স্বাগত জানালেও, বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মীরা একে আধুনিক সভ্যতার কলঙ্ক হিসেবে দেখছেন। রাশিদা তালিবের এই প্রতিবাদ মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে ইসরাইল বিরোধী জনমতকে আরও জোরালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency