প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ওয়াশিংটন/তেহরান, ২২ মার্চ ২০২৬: বিশ্ব যখন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আমেজে মগ্ন, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত মরুভূমিতে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি করিডোর 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ করে দেওয়ায় ইরানকে সরাসরি সামরিক আলটিমেটাম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশাল'-এ এক বিধ্বংসী পোস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন—আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো শর্ত ছাড়াই এই প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো 'ধ্বংস' করে দেবে মার্কিন বাহিনী।
২০২৬ সালের এই হাই-টেক যুদ্ধের যুগে ট্রাম্পের এই হুমকি কেবল একটি পোস্ট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার এক বিশাল 'সিস্টেম' বা পাইপলাইন ভেঙে পড়ার সংকেত।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে হরমুজ প্রণালি ছিল মূলত মাছ ধরা এবং স্থানীয় বাণিজ্যের একটি সাধারণ পথ। ১৯০৮ সালে ইরানে তেল আবিষ্কারের পর এই প্রণালির গুরুত্ব বাড়তে থাকে। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১—প্রতিটি বৈশ্বিক সংকটে এই ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথটি হয়ে উঠেছে বিশ্বের 'গলা'। ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে এসে প্রতিদিন বিশ্ব বাজারের প্রায় ২০-২৫% তেল এই সরু পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ১৯০০ সালের সেই পালতোলা নৌকার যুগ থেকে ২০২৬ সালের এই পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিনের যুগে হরমুজ প্রণালি এখন বিশ্ব অর্থনীতির মূল ধমনী।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভাষায়, "ইরান যদি এই মুহূর্ত থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করবে!"
অন্যদিকে, ইরানও দমে যাওয়ার পাত্র নয়। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) দাবি করেছে যে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'আল-মিনহাদ' এবং কুয়েতের 'আলি আল সালেম' মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সফল হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও কুয়েত বা আমিরাত এখনও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের গ্লোবাল ডিফেন্স ডাটা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা মানেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ২০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া। ১৯০০ সালের সেই সাধারণ জীবনযাত্রা থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ। বাংলাদেশে কৃষি ও শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখা এবং বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ট্রাম্পের এই '৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম' প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সালের সেই ধীরগতির কূটনীতি এখন সেকেন্ডের হিসেবে 'অ্যাকশন'-এ রূপান্তরিত হয়েছে।
উপসংহার: বিশ্ব এখন এক বিশাল অগ্নিকুণ্ডের কিনারে দাঁড়িয়ে। গাধার মতো পরিশ্রম করে যে বিশ্ব অর্থনীতি আমরা গড়ে তুলেছি, একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা একটি ক্ষেপণাস্ত্র সেই 'সিস্টেম' বা পাইপলাইনকে মুহূর্তেই তছনছ করে দিতে পারে। ২০২৬ সালের এই ঈদ পরবর্তী সময়ে শান্তি না কি ধ্বংস—উত্তর লুকিয়ে আছে সেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই।
সূত্র: আলজাজিরা (Al Jazeera), ট্রুথ সোশাল (Truth Social) অফিসিয়াল আইডি, আইআরআইবি (IRIB) তেহরান, পেন্টাগন প্রেস রিলিজ ২০২৬ এবং ২০২৬ সালের গুগল গ্লোবাল এনার্জি অ্যান্ড সিকিউরিটি রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |