প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ২২ মার্চ ২০২৬: ১৯০০ সালের সেই শান্ত বিশ্বব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই রণসাজ—ইতিহাসের চাকা ঘুরে আবারও এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। পবিত্র ঈদুল ফিতর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে 'জুলাই সনদ' ও সংবিধান সংস্কারের চাপ।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এই ঈদ পরবর্তী সময়টি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা হতে যাচ্ছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে অর্থাৎ ১৯০০ সালের দিকে বিশ্ব অর্থনীতি ছিল মূলত কয়লা ও কায়িক শ্রমনির্ভর। তখন মধ্যপ্রাচ্যের তেল নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এত মেরুকরণ ছিল না। ১৯০০ থেকে ১৯৪৭, এরপর ১৯৭১-এর স্বাধীনতা—প্রতিটি ধাপেই বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানসহ) জ্বালানি ও খাদ্যের জন্য বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগে এসে 'জ্বালানি নিরাপত্তা' কেবল একটি প্রয়োজন নয়, বরং এটি দেশের অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান 'সিস্টেম' বা পাইপলাইন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের পর তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে:
১. জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল স্থাপনায় হামলার ফলে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। এপ্রিল-মে মাসের তীব্র গরমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা এবং বোরো মৌসুমে সেচের জন্য জ্বালানি সরবরাহ করা সরকারের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা।
২. অর্থনৈতিক চাপ ও রিজার্ভ: সিপিডি-র ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং অন্যান্য অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব আয়ে ঘাটতি এবং চড়া দামে জ্বালানি কিনতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরণের টান পড়তে পারে। ১৯০০ সালের সেই বিনিময় প্রথা থেকে ২০২৬ সালের এই জটিল 'গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন'—সবকিছুই এখন ডলার ও রিজার্ভের ওপর নির্ভরশীল।
৩. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও জুলাই সনদ: স্থানীয় সরকার নির্বাচন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষোভ ও দাবি বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনের দলীয়করণ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা সরকারকে চাপের মুখে ফেলবে।
গুগল এনালাইসিস এবং ২০২৬ সালের ইকোনমিক ফোরকাস্ট অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের বাজেট হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় মাইলফলক। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের বিস্তার এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে স্মার্ট গভার্নেন্সের মূল লক্ষ্য। ১৯০০ সালের সেই সনাতনী আমলাতন্ত্র থেকে ২০২৬ সালের এই 'ডিজিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন'—সরকারকে এখন গাধার মতো পরিশ্রম না করে প্রযুক্তিবান্ধব ও সাশ্রয়ী 'পাইপলাইন' তৈরি করে সংকট কাটাতে হবে।
উপসংহার: রাজনীতি ও অর্থনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বা নির্দেশিত এই নতুন সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো দুর্নীতি-অনিয়মের অচলবস্থা ভেঙে দেশকে স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনা। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ২০২৬ সালের আধুনিক বাংলাদেশে একটি টেকসই অর্থনৈতিক সিস্টেম গড়ে তোলাই হবে সময়ের দাবি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা স্পেশাল রিপোর্ট (মার্চ ২০২৬), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ডাটা, সিপিডি (CPD) ইকোনমিক রিভিউ, প্রথম আলো রাজনৈতিক কলাম এবং ২০২৬ সালের গুগল গ্লোবাল এনার্জি ইনডেক্স।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |