মার্কিন বি১-বি২ ভিসা নিয়ে নতুন নির্দেশনা: ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত অভিবাসন নীতির বিবর্তন ও বিশ্লেষণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বি১-বি২ (B1-B2) ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নির্দেশনার ফলে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ এবং ভিজিটর ভিসায় কাজের সুযোগ বন্ধ করার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জো বাইডেন-পরবর্তী বর্তমান মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন দূতাবাসের নতুন সতর্কবার্তার মূল পয়েন্টসমূহ দূতাবাসের পক্ষ থেকে তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে: ১. বার্থ ট্যুরিজম নিষিদ্ধ: বি১-বি২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া যাবে না। অনেক নাগরিক শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই পথ বেছে নিতেন, যা এখন থেকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে। ২. পারিশ্রমিকযুক্ত কাজ নিষিদ্ধ: ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন বা পারিশ্রমিক পাওয়া যায়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না। ৩. প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নিষিদ্ধ: এই ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কোনো ডিগ্রি অর্জন বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেডিটের জন্য পড়াশোনা করা যাবে না।
ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং বাংলাদেশের সাথে এর সম্পর্কের ইতিহাস অত্যন্ত ঘটনাবহুল।
১. উপনিবেশিক আমল ও ১৯০০-এর শুরু: ১৯০০ সালের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ছিল অত্যন্ত বর্ণবাদী এবং এশীয়দের জন্য ছিল ‘এক্সক্লুশন অ্যাক্ট’। সেই সময় খুব নগণ্য সংখ্যক বাঙালি (তৎকালীন অবিভক্ত ভারত থেকে) নাবিক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। ২. ১৯৬৫ সালের অভিবাসন আইন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা: ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোটা সিস্টেম বাতিল করে নতুন অভিবাসন আইন প্রণয়ন করে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মার্কিন সরকার (নিক্সন প্রশাসন) পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও, সে দেশের সাধারণ জনগণ ও সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি বাংলাদেশের পক্ষে ছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়। ৩. ১৯৯০-এর দশক ও ডিভি লটারি: ১৯৯০-এর দশকে ‘ডিভি লটারি’ (Diversity Visa) চালুর ফলে বাংলাদেশ থেকে বিশাল সংখ্যক মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর সুযোগ পায়। সেই সময় থেকেই বি১-বি২ ভিসার আবেদন বহুগুণ বেড়ে যায়। ৪. ২০২৪-২০২৬: কঠোর অভিবাসন নীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের পর এবং ২০২৬ সালে এসে আমরা দেখছি যে, অবৈধ অভিবাসন এবং ভিসার অপব্যবহার রোধে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অভূতপূর্ব কঠোরতা অবলম্বন করছে। বিশেষ করে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ রোধে ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা নীতিটি বর্তমান ২০২৬ সালেও আরও আধুনিক ও কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বক্তব্য বিশ্লেষণ ভিসা নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বক্তব্য দিয়েছেন:
সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি (১৯৭১-২০০৯): তিনি সব সময় বৈধ অভিবাসনের পক্ষে কথা বলেছেন এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প (সাবেক প্রেসিডেন্ট): তিনি বারবার ‘বার্থ রাইট সিটিজেনশিপ’ বাতিলের কথা বলেছিলেন, যা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের ভিসা কড়াকড়ির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস (২০২৬): বর্তমান নির্দেশনায় দূতাবাস সাফ জানিয়েছে, "ভিজিটর ভিসায় প্রবেশ করা কোনো ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো কাজ করতে পারবেন না।"
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশিদের করণীয় ২০২৬ সালের এই নতুন নির্দেশনা মূলত বাংলাদেশিদের ভিসা প্রাপ্তিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে। বি১-বি২ ভিসা একটি ‘নন-ইমিগ্রান্ট’ ভিসা, যা কেবল পর্যটন, চিকিৎসা বা স্বল্পমেয়াদী ব্যবসার জন্য। ১৯০০ সালের সেই সীমিত যাতায়াত থেকে ২০২৬ সালের গ্লোবাল কানেক্টিভিটির যুগে এসেও ভিসার অপব্যবহার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যারা এই নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তারা ভবিষ্যতে আজীবনের জন্য মার্কিন প্রবেশাধিকার হারাতে পারেন।
উপসংহার মার্কিন ভিসা নীতির এই পরিবর্তন কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বিশ্বজুড়েই কার্যকর হচ্ছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া অভিবাসন সংগ্রামের ইতিহাস আজ ২০২৬ সালে এসে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কঠোর আইনি বেড়াজালে আবদ্ধ। তাই বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের উচিত দূতাবাসের প্রতিটি নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা।
সূত্র: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস (অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ), ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট আর্কাইভ (১৯৬৫-২০২৬), যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |