বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৯ মার্চ) রাঙামাটি জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির মোট ৮৭ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এই গণপদত্যাগ পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে এনসিপির অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
পদত্যাগকারী নেতাদের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তারা এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। তাদের অভিযোগের প্রধান দিকগুলো হলো:
স্বকীয়তা হারানো: জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে 'নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত' গড়ার যে প্রতিশ্রুতি এনসিপি দিয়েছিল, বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করার মাধ্যমে সেই আদর্শ থেকে দলটি বিচ্যুত হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
আদর্শিক অমিল: পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির সমীকরণে এনসিপির বর্তমান অবস্থানকে তারা তাদের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আদর্শের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন।
জুরাছড়ি উপজেলার এই কমিটি চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মাত্র ছয় মাসের জন্য অনুমোদন পেয়েছিল। কিন্তু অনুমোদনের আড়াই মাসের মাথায় পুরো কমিটির পদত্যাগ দলটির তৃণমূল পর্যায়ে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমাসহ ৮৭ জনের এই প্রস্থান রাঙামাটি জেলা কমিটির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক ধাক্কা।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা এই খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বরাতে নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পয়েন্ট তুলে ধরেছেন:
সাংগঠনিক নিয়ম: পদত্যাগ কার্যকর হতে হলে নির্দিষ্ট কমিটির কাছে লিখিতভাবে আবেদন করতে হয়। জুরাছড়ি কমিটির পদত্যাগপত্রটি রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হলেও, তা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গৃহীত হয়েছে কি না, তা এখনো পর্যালোচনার বিষয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতি সব সময়ই মূলধারার রাজনীতির চেয়ে কিছুটা ভিন্ন ও স্পর্শকাতর। জুলাই বিপ্লবের পর এনসিপি যখন একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, তখন পাহাড়ের মানুষের মধ্যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের ডামাডোলে বড় দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়াটা অনেক তৃণমূল কর্মী ‘পুরানো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে দেখছেন। জুরাছড়ির এই ৮৭ জনের পদত্যাগ কেবল একটি উপজেলার ঘটনা নয়, এটি এনসিপির জন্য একটি সতর্কবার্তা—যদি তারা তাদের স্বকীয়তা ও বিপ্লবের স্পিরিট ধরে রাখতে না পারে, তবে অন্যান্য এলাকাতেও এমন গণপদত্যাগের পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
তথ্যসূত্র: রাঙামাটি জেলা এনসিপি সূত্র, স্থানীয় সংবাদকর্মী ও পদত্যাগকারী নেতাদের প্রেস ব্রিফিং (৯ মার্চ ২০২৬)।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পার্বত্য রাজনীতি ও এনসিপির সাংগঠনিক পরিবর্তনের আরও গভীর বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |