বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে (১৯০০ পরবর্তী) বাংলার মুসলিম সমাজে রমজান পালন কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি গভীর সামাজিক ও আত্মিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে হারিকেন জ্বালিয়ে বা টিনের ড্রাম পিটিয়ে সেহরিতে জাগিয়ে তোলার যে সংস্কৃতি ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশে তা মসজিদের মাইকের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় রূপ নিয়েছে। তবে সময়ের বিবর্তন হলেও সেহরির বিধান ও এর বরকত অপরিবর্তিত রয়েছে।
'সেহরি' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ভোরের খাবার। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে খাবার গ্রহণ করা হয়, তাকেই সেহরি বলা হয়।
সময়সীমা: সুবহে সাদিক হওয়ার সাথে সাথেই সেহরির সময় শেষ হয়ে যায়। আমাদের দেশে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং স্থানীয় মসজিদগুলো সতর্কতামূলকভাবে প্রকৃত সময়ের ২-৩ মিনিট আগেই ঘোষণা দেয়।
আজান ও পানাহার: অনেকর মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে যে, আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত খাওয়া যায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল। আজান দেওয়া হয় সুবহে সাদিক হওয়ার পর। সুতরাং আজান শুরু হওয়ার সাথে সাথেই পানাহার বন্ধ করতে হবে। আজান চলাকালীন কিছু খেলে সেই রোজা হবে না।
আমাদের দেশে সেহরির শেষ সময়ের ১-১.৫ ঘণ্টা আগে থেকে মাইকিং করার একটি সুন্দর সংস্কৃতি রয়েছে। এটি মূলত রোজাদারদের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
সতর্কতা: মসজিদের মাইকে যখন বলা হয় "সেহরির সময় শেষ", তখন থেকেই মূলত সংযম শুরু হয়। তবে যদি ঘোষণাটি সতর্কতামূলক সময়ের হয়, তবে ভিন্ন কথা। কিন্তু নিরাপদ থাকার জন্য আজানের আগেই পানাহার শেষ করা উত্তম।
সেহরি খাওয়া কেবল ক্ষুধা নিবারণের মাধ্যম নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। হাদিস শরিফে এর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত আছে।" (সহিহ বুখারি: ১৯২৩)
পার্থক্য: মুসলিম ও অমুসলিমদের রোজার মধ্যে মূল পার্থক্যই হলো সেহরি গ্রহণ করা। এমনকি সামান্য এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যায়।
রমজানের মূল ইবাদত হলো নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণ করা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কেবল পানাহার নয়, বরং স্ত্রী সহবাস, মিথ্যা বলা, গিবত করা এবং যাবতীয় অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকাই হলো প্রকৃত রোজা। এটি একজন মুমিনকে ধৈর্য এবং সহনশীলতার শিক্ষা দেয়।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি (হাদিস ১৯২৩), ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং রমজানের মাসয়ালা বিষয়ক গবেষণা (মার্চ ২০২৬)।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ আরও ধর্মীয় ও বিশ্লেষণধর্মী কন্টেন্ট পেতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |