প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি পটপরিবর্তনই কোনো না কোনো দলের উত্থান কিংবা পতনের সাক্ষী হয়ে আছে। ২০২৬ সালের সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ রাজনীতির গোপন তৎপরতা। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো দলটির নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছেন, যা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে।
বাংলার রাজনীতির বিবর্তন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই (১৯০০ পরবর্তী) এ ভূখণ্ডের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হওয়া এবং ফিরে আসার এক দীর্ঘ সংস্কৃতি রয়েছে। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দলটি এক অভূতপূর্ব সংকটে পড়ে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের নভেম্বরে ছাত্রলীগকে এবং ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগসহ এর সকল অঙ্গসংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনের পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিতে শুরু করেছে।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনের পরপরই ঢাকা, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, চাঁদপুর এবং খুলনাসহ বেশ কিছু জেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জানিয়েছেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি বলে তারা মনে করেন, তাই সেখানে যাওয়াকে তারা অধিকার হিসেবে দেখছেন।
তৃণমূলের তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন যার যেখানে সম্ভব দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার জন্য। গত ২০শে ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডিতে সভাপতির কার্যালয়ের সামনে নারী কর্মীদের পতাকা ওড়ানোর দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি হলো, পঞ্চগড়সহ কয়েকটি স্থানে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে ভোটের সমর্থনের আশায় কিছু প্রভাবশালী বিএনপি ও জামায়াত নেতা আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সাথে গোপন যোগাযোগ করেছিলেন। সেই 'আশ্বাস' থেকেই এখন কার্যালয় খোলার সাহস পাচ্ছেন কর্মীরা।
তবে এর প্রতিক্রিয়াও হচ্ছে ভয়াবহ। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যালয় খোলার পরপরই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মীরা সেখানে হামলা ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আইনগতভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। সুতরাং যে কেউ যেখানেই অফিস খোলার চেষ্টা করুক, তা কঠোরভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় দেখা হবে।" তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, অতীতে নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে বিএনপি যে আন্দোলন করেছিল, তা ছিল জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য, যা বর্তমান আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সাথে তুলনীয় নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের মতে, নির্বাচিত সরকার আসার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ছোট দলগুলোকে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া গণতন্ত্রের অংশ। তবে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন গণহত্যার অভিযোগ একটি বড় আইনি বাধা। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাঙালির গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে এবারের 'নিষেধাজ্ঞা বনাম প্রত্যাবর্তনের' লড়াইটি সবচেয়ে জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা, যুগান্তর, গুগল নিউজ আর্কাইভ, বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তর ও এনসিপি মিডিয়া সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |