প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল (থার্ড টার্মিনাল) দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর বিশ্বমানের যাত্রীসেবার পথে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে।
বাঙালির যাতায়াতের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের প্রথম দিকে এ অঞ্চলে আকাশপথের ধারণা ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। ১৯৪১ সালে তেজগাঁও বিমানবন্দরের মাধ্যমে সামরিক প্রয়োজনে বিমান চলাচলের শুরু এবং পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে কুর্মিটোলায় বর্তমান বিমানবন্দরটি চালু হয়। ১৯০০ সালের সেই পালকি আর নৌকার যুগ থেকে ২০২৬ সালের এই অত্যাধুনিক থার্ড টার্মিনাল—এই রূপান্তরই বলে দেয় বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে যাত্রীসেবার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, একটি উন্নত রাষ্ট্রের প্রবেশদ্বার বা গেটওয়ে হলো তার বিমানবন্দর। ১৯০০ সালের সেই অবহেলিত জনপদ আজ ২০২৬ সালে এসে বিশ্বমঞ্চে নিজের সক্ষমতা জানান দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, “প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যাতে দ্রুততম সময়ে থার্ড টার্মিনাল যাত্রী চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়। আমরা এখন কারিগরি বিষয়গুলো তদন্ত করছি এবং দ্রুত বাস্তবায়নের পথ খুঁজছি।”
টার্মিনালটির ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও কেন এতদিন চালু করা সম্ভব হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কিছু জটিলতা ছিল। নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং কিছু অংশ ভাঙা সংক্রান্ত সুপারিশ নিয়ে জটিলতা থাকলেও বর্তমান সরকার এখন সব বাধা কাটিয়ে চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে। তবে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির আগে নির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনই জানানো সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
| বিবরণ | তথ্য |
| নির্দেশনা দাতা | প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান |
| কাজের অগ্রগতি | ৯৯ শতাংশের বেশি সম্পন্ন |
| সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় | বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
| প্রধান লক্ষ্য | বিশ্বমানের যাত্রীসেবা ও বিমান চলাচল বৃদ্ধি |
| সহযোগী সংস্থা | বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) |
সূত্র: ১. মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিং (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)।
২. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি।
৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের এভিয়েশন হিস্ট্রি ও বিমানবন্দর বিবর্তন দলিল।
৪. বেবিচক (CAAB) টেকনিক্যাল অডিট রিপোর্ট ২০২৬।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় থার্ড টার্মিনাল চালু হওয়া কেবল একটি ভবনের উদ্বোধন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক। ১৯০০ সালের সেই জরাজীর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই মেগা স্ট্রাকচার—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম 'এভিয়েশন হাব' হতে প্রস্তুত। এটি চালু হলে যাত্রী ভোগান্তি কমার পাশাপাশি পর্যটন ও বৈদেশিক বাণিজ্যেও গতি ফিরবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |