প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে এনসিপি (NCP) নেতাদের ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক সারজিস আলমের পৃথক তিনটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে। ‘ইনকিলাব’ বা বিপ্লবের মন্ত্রে উজ্জীবিত এই নেতাদের বার্তা নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মেরুকরণে এক বিশেষ ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের প্রথম দিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ (বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগানটি এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়েছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধেও বিভিন্ন বিপ্লবী স্লোগান ছিল মুক্তিকামী মানুষের প্রধান হাতিয়ার।
বিংশ শতাব্দীর ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের এই দীর্ঘ ১২৬ বছরের পথচলায় দেখা গেছে, যখনই কোনো স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন ঘটেছে, তখনই এই বিপ্লবী স্লোগানগুলো নতুন করে ফিরে এসেছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৬ সালের নির্বাচনে জয়ের পর এনসিপি নেতাদের কণ্ঠে এই স্লোগানটি মূলত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের’ দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই পরাধীনতার বিরুদ্ধে লড়াই আর ২০২৬ সালের ‘চাঁদাবাজি ও অপশাসনের’ বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্যে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ইফতারের পরপরই সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে কেবল দুটি শব্দ লেখেন— ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ মাত্র দুই শব্দের এই স্ট্যাটাস মুহূর্তেই হাজার হাজার শেয়ার ও লাইক পায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্য হওয়ার পরও হাসনাত তার বিপ্লবী সত্তাকে ধরে রাখার অঙ্গীকারই এই পোস্টের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে আরও একটু সরাসরি বার্তা দেন। তিনি লেখেন— ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ! ✊ চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ! 🚫।’ তার এই পোস্টটিতে আড়াই লাখের বেশি রিঅ্যাকশন এবং হাজার হাজার কমেন্ট জমা পড়েছে। নবগঠিত সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো সড়কের চাঁদাবাজি ও স্থানীয় পর্যায়ের পেশিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করা। নাসীরুদ্দীনের এই কঠোর অবস্থান তৃণমূল কর্মীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
রাত ৮টা ১০ মিনিটে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম এক তাত্ত্বিক স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন— ‘যে স্লোগান স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে, সেই স্লোগান তাদের উত্তরসূরিদের ভয়ের কারণ তো হবেই!’ সারজিস আলমের এই বক্তব্য মূলত সেই সব মহলের প্রতি ইঙ্গিত, যারা নতুন বাংলাদেশেও পুরোনো অপসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চায়। তার এই স্ট্যাটাসটিও দেড় লাখের বেশি লাইক ও কয়েক হাজার শেয়ারের মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
সূত্র: ১. হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. এনসিপি (NCP) মিডিয়া সেল ও দলীয় কার্যালয়। ৩. ১৯০০-২০২৬: বাংলার বিপ্লবী স্লোগান ও রাজনৈতিক বিবর্তন দলিল। ৪. সমসাময়িক অনলাইন ট্রাফিক ও গুগল এনালাইসিস রিপোর্ট।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় এনসিপি নেতাদের এই সোশ্যাল মিডিয়া এক্টিভিজম প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র পরিচালনায় এলেও তারা ‘বিপ্লবী চেতনা’ ত্যাগ করতে রাজি নন। ১৯০০ সালের সেই নির্ভীক বিপ্লবীদের উত্তরসূরি হিসেবে হাসনাত-সারজিসরা যেভাবে সরাসরি ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘স্বৈরাচারের উত্তরসূরিদের’ চ্যালেঞ্জ করছেন, তা জনমনে বিপুল আশার সঞ্চার করেছে। এটি নবগঠিত তারেক রহমান সরকারের ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে এক বিশেষ শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |