প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধার মুখে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে নিজের সাবেক দল বিএনপিকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকেই এ অঞ্চলের মানুষ রাজনৈতিক অধিকার ও ভাষার মর্যাদা রক্ষায় সোচ্চার ছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন ছিল সেই সংগ্রামের চূড়ান্ত রূপ, যেখানে সব মতের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। তবে গত কয়েক দশকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঐতিহ্যের পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ইনসাফ ও সহনশীলতার’ রাজনীতির ডাক দিয়েছেন, সেখানে সরাইলের এই ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ১৯০০ সালের সেই ত্যাগী মানসিকতা থেকে বিচ্যুত হয়ে স্থানীয় কোন্দল প্রকট হওয়া নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি অশনিসংকেত।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানা তার সমর্থকদের নিয়ে সরাইল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যান। তিনি যখন পুষ্পস্তবক নিয়ে বেদির সামনে দাঁড়ান, তখন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। উত্তেজনার একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার আনা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন না করেই এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও বাঁশে অগ্নিসংযোগ করে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা গভীর রাতে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনার পর ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। এখন যদি স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, তবে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলের পদ ব্যবহার করে যারা এমন হিংস্রতা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যথায় দলের সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।”
সূত্র: ১. সরাইল উপজেলা বিএনপি ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দাদের সাক্ষাৎকার। ২. ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অন-ডিউটি কর্মকর্তাদের প্রেস ব্রিফিং। ৩. ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ ও প্রেস রিলিজ। ৪. ১৯০০-২০২৬: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক বিবর্তন ও আঞ্চলিক সংঘাতের ইতিহাস।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যখন একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ার চেষ্টা করছে, তখন সরাইলের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে তৃণমূল পর্যায়ে এখনো নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা ও পুরোনো প্রতিহিংসা রয়ে গেছে। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপটে যেমন স্থানীয় জোতদারী কোন্দল রাজনীতিকে কলুষিত করত, ২০২৬ সালেও তার ছায়া দেখা যাচ্ছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের ওপর এই হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর নয়, বরং সংসদীয় মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |