প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ উত্তর রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাস বারবার ক্ষমতার পটপরিবর্তন এবং নিষিদ্ধ-অনিষিদ্ধের খেলার সাক্ষী হয়েছে। তবে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ‘নতুন বাংলাদেশে’ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় কার্যালয় খোলা এবং পতাকা উত্তোলনের ঘটনা নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় বহু বিপ্লবী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে জামায়াতে ইসলামীসহ নানা রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ বা স্থগিতের মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। ১২৬ বছরের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় ২০২৬ সালে এসে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর নিষিদ্ধ দলের এই দৃশ্যমান তৎপরতা রাজনৈতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির কাছ থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত ছাড়া নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা বা পতাকা উত্তোলনের সাহস কেউ পেত না।”
নাহিদ ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, এবারের নির্বাচনে ভারত, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির মধ্যে এক ধরনের রহস্যজনক ‘যোগসাজশ’ হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করে?
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অবিলম্বে এসব কার্যালয় বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের ডাক দেবে। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের দায়ে আমরা এই সরকারকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাব।” তিনি আওয়ামী লীগের এই তৎপরতাকে ব্যাপকভাবে প্রচার করার ক্ষেত্রে কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলেও বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি ও জামায়াতের জোরালো অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা বা পুনর্বাসনের যেকোনো চেষ্টা নতুন সরকারের জন্য বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা চিরাচরিত ‘ক্ষমতার ভাগাভাগি’র রাজনীতি ২০২৬ সালে এসে জনগণের প্রত্যাশার মুখে কতোটা টিকবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: এনসিপির সংবাদ সম্মেলন প্রতিবেদন (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), যুগান্তর অনলাইন, প্রথম আলো এবং বাসস।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের রাজনীতি এখন কেবল উন্নয়ন নয়, বরং ‘ফ্যাসিবাদ নির্মূল’ ও ‘রাজনৈতিক শুদ্ধাচারের’ ওপর দাঁড়িয়ে। ১৯০০ সালের এনালগ রাজনীতি থেকে ২০২৬ সালের এই ডিজিটাল ও সচেতন জনমতের যুগে বিএনপির জন্য আওয়ামী লীগের প্রতি নমনীয়তা দেখানো রাজনৈতিক আত্মহত্যার শামিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নাহিদ ইসলামের এই কড়া অবস্থান নতুন সরকারের ওপর জনগণের নজরদারি আরও বাড়িয়ে দিল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |