| বঙ্গাব্দ

গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরাইলে প্রতি ৪ জনে ১ জন মাদকাসক্ত: হারেৎজ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-07-2026 ইং
  • 25921 বার পঠিত
গাজা যুদ্ধের প্রভাবে ইসরাইলে প্রতি ৪ জনে ১ জন মাদকাসক্ত: হারেৎজ
ছবির ক্যাপশন: ৪ জনে ১ জন মাদকাসক্ত

বোমা আশ্রয়কেন্দ্রেও চলছে কোকেন-কেটামিন সেবন! যুদ্ধের মানসিক চাপে ইসরাইলে মাদকাসক্তির হার ২৫ শতাংশে স্পর্শ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | মিডল ইস্ট আই

সর্বশেষ আপডেট: ১৩ জুলাই, ২০২৬

গাজায় চলমান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক বহুমুখী সামরিক উত্তেজনার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দখলদার ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ জনস্বাস্থ্যে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে মাদক ও মারাত্মক ক্ষতিকর নেশাজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরাইলের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ (Haaretz)-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বর্তমানে প্রতি চারজন ইসরাইলির মধ্যে একজন (২৫%) ক্ষতিকর মাত্রায় মাদকাসক্তির শিকার হয়েছেন।

‘ইসরাইল সেন্টার ফর অ্যাডিকশন অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মূলত ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে এই মাদকাসক্তির গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, করোনাভাইরাস মহামারির আগে ইসরাইলে প্রতি ১০ জনে একজন ক্ষতিকর মাত্রার মাদক ব্যবহার করতেন। মহামারির চরম সংকটের সময়ে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় প্রতি সাতজনে একজন। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর এবং ২০২৬ সালের চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে এই হার প্রায় ২৫ শতাংশ বা প্রতি চারজনে একজনে গিয়ে ঠেকেছে।

পিটিএসডি (PTSD) এবং সেডেটিভের আড়াই গুণ ব্যবহার

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের তীব্র ট্রমা বা মানসিক ধাক্কা সামলাতে ইসরাইলিদের মধ্যে প্রশমনকারী ওষুধ বা সেডেটিভ (Sedative)-এর ব্যবহার আগের তুলনায় আড়াই গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যথানাশক ওপিওয়েড (Opioids) ও বিভিন্ন উত্তেজক মাদকের ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর বাইরে সাধারণ অ্যালকোহল ও গাঁজার (Cannabis) ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হলো, যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা দেখে আসা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আতঙ্কে থাকা পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)-এ আক্রান্ত ইসরাইলিদের মধ্যে ৫৪.২ শতাংশই এখন নিজেদের মানসিক ভারসাম্য ঠিক রাখতে মারাত্মক মাদকের অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক শাউলি লেভ-রান এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন:

“বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ, প্রতিনিয়ত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার আশঙ্কা, সাইরেনের আওয়াজ, একের পর এক সেনা সমাবেশ, সহকর্মীদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া এবং প্রতিনিয়ত মৃত্যুর খবর ইসরাইলিদের মানসিক চাপকে সহ্যের শেষ সীমায় নিয়ে গেছে।”

বোমা আশ্রয়কেন্দ্র থেকে কর্মস্থল: প্রকাশ্য মাদকের স্বর্গরাজ্য

সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া একাধিক ইসরাইলি নাগরিক স্বীকার করেছেন যে, সাইরেন বাজার পর বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে (Bomb Shelter) প্রবেশের ঠিক আগে তীব্র আতঙ্ক কাটাতে তারা ‘কেটামিন’ (Ketamine) গ্রহণ করতেন। আবার কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন অ্যালার্ট বা উদ্বেগের মধ্যেও কর্মক্ষম বা সজাগ থাকতে কড়া সব উত্তেজক মাদক ব্যবহার করতেন। বর্তমানে ইসরাইলিদের একটি বিশাল অংশ এই যুদ্ধকালীন মানসিক চাপ সামলাতে কেটামিন, কোকেন, অ্যামফেটামিন, গাঁজা ও চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের কড়া ঘুমের ওষুধের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

মাদকের এই ভয়াবহ ব্যবহার এখন আর শুধু রাতের বিনোদনকেন্দ্র বা বারের অন্ধকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এখন বাড়ি, সাধারণ কর্মস্থল, বার এবং জনসাধারণের জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় আশ্রয়কেন্দ্রেও প্রকাশ্যে দেদারসে মাদক সেবন করা হচ্ছে। পাশাপাশি টেলিগ্রামের মতো এনক্রিপটেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার কারণে ঘরের দোরগোড়ায় মাদক সংগ্রহ আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়ে উঠেছে।

ক্ষতি কমানোর কর্মসূচিতে যুক্ত বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রয় জাকার জানান, মাদক-সংক্রান্ত জরুরি ও জটিল চিকিৎসা নিতে আসা ৮০ শতাংশের বেশি রোগী মূলত ‘পলি-ড্রাগ’ বা একাধিক ধরনের মাদক একসঙ্গে মিক্স করে গ্রহণ করেছিলেন, যা যেকোনো সময় মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও বাড়ছে ট্রমা

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের ভেতরে বসবাসকারী ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যেও মাদক গ্রহণের প্রবণতা আগের চেয়ে বেড়েছে। গাজায় নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ওপর চলা নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রত্যক্ষ করা এবং নিজেদের রাষ্ট্রে বাড়তে থাকা বৈষম্য ও চাপের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছেন।

আন্তর্জাতিক মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, তবে ইসরাইলে সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং এই মাদকাসক্তির সংকট ভবিষ্যতে আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency