| বঙ্গাব্দ

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ নয়: ইসিকে জামায়াত আমিরের আল্টিমেটাম

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 09-02-2026 ইং
  • 2155566 বার পঠিত
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ নয়: ইসিকে জামায়াত আমিরের আল্টিমেটাম
ছবির ক্যাপশন: ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ নয়: ইসিকে জামায়াত আমিরের আল্টিমেটাম

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকতেই নির্বাচন কমিশনের একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজপথ। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতর মোবাইল ফোন ও সব ধরনের রেকর্ডিং ডিভাইস নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) এক বিশাল সমাবেশে তিনি বলেন, "অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে যখন আন্দোলন শুরু হয়, তখনও ইন্টারনেট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল যাতে অপরাধ গোপন করা যায়। আজ আবার কার ইশারায় নির্বাচন কমিশন সেই একই অন্ধকার গলিপথে হাঁটার চেষ্টা করছে?"

১৯০০-২০২৬: তথ্য ও অধিকারের লড়াই

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের পর থেকে বাকস্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বারবার ফিরে এসেছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শাসকগোষ্ঠী তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। ১৯০০ সালের প্রেক্ষাপট থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাঙালির যে গণতান্ত্রিক বিবর্তন, সেখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান দাবি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "জুলাইয়ের সেই অপকর্ম যেমন মেনে নেওয়া হয়নি, আজও মেনে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। জুলাই যোদ্ধারা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা এখনও জেগে আছে। জনগণের ভোট ছিনতাইয়ের দুঃসাহস দেখাবেন না।"

আল্টিমেটাম ও আন্দোলনের ডাক

জামায়াত আমির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "আজ সন্ধ্যার আগেই যদি এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে জনগণকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া না হয় এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার জটিলতা সৃষ্টি করা হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন শুরু হবে। আর এর সমস্ত দায়ভার কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।" তিনি জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে দেশবাসী তা রুখে দেবে।

স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবি

সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি নাগরিকের হাতে তথ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকতে হবে। মোবাইল নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো কেন্দ্র দখল বা কারচুপির সুযোগ তৈরি করা। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "জনগণের ভোট আবার কেউ ছিনতাই করবেন—এই দুঃস্বপ্ন দেখবেন না। আমরা সব অপকর্ম প্রতিহত করে দেব ইনশাআল্লাহ।"

সভায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা দেশবাসীকে সজাগ থেকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।


সূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া উইং, বিএসএস, যুগান্তর আর্কাইভ এবং ২০২৬ নির্বাচনের মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন।


বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও বিতর্কিত হিসেবে দেখছেন। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই কোনো প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের নজরদারির বাইরে থাকতে চেয়েছে, তখনই সন্দেহের দানা বেঁধেছে। জামায়াত আমিরের এই আল্টিমেটাম ত্রয়োদশ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency