| বঙ্গাব্দ

লাল পাসপোর্ট ছাড়ছেন উপদেষ্টারা | ২০২৬ নির্বাচনের আগে আগাম প্রস্তুতির রহস্য

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-02-2026 ইং
  • 2277444 বার পঠিত
লাল পাসপোর্ট ছাড়ছেন উপদেষ্টারা | ২০২৬ নির্বাচনের আগে আগাম প্রস্তুতির রহস্য
ছবির ক্যাপশন: লাল পাসপোর্ট ছাড়ছেন উপদেষ্টারা

বিদায়ের ঘণ্টা: ডজনখানেক উপদেষ্টার ‘লাল পাসপোর্ট’ সমর্পণ ও রহস্যময় আগাম প্রস্তুতি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়লগ্ন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে উপদেষ্টা পরিষদে শুরু হয়েছে ‘লাল পাসপোর্ট’ বা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার হিড়িক। দায়িত্ব ছাড়ার আগেই কেন এই তোড়জোড়—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বইছে নানা আলোচনা ও সন্দেহের ঝড়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কি কেবল প্রশাসনিক নিয়ম, নাকি ক্ষমতার পালাবদলের পর আইনি জটিলতা এড়ানোর আগাম কৌশল?

কারা জমা দিলেন বিশেষ পাসপোর্ট?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্তত আটজন উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তালিকায় রয়েছেন:

  • অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ

  • আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

  • শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার

  • বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান

  • গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান

  • পরিবেশ ও তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

  • সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি দিয়ে দিয়েছি। আমি আর কোথাও যাব না। এটি একটি নিয়ম।” তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এখনো নিজের পাসপোর্ট জমা দেননি এবং বিষয়টিকে দায়িত্ব থাকাকালীন ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

রহস্য ও সন্দেহের দানা

সাধারণত দায়িত্ব ছাড়ার পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে উপদেষ্টাদের এই পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেন, “নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতির সাথে এটি রিলেট করার সুযোগ আছে। প্রধান উপদেষ্টা সম্পদের হিসাব দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটিও এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় পাসপোর্ট পরিবর্তনের বিষয়টি সন্দেহ তৈরি করে।”

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোনো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা প্রশাসনিক জটিলতা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই উপদেষ্টারা হয়তো ‘সেফ এক্সিট’ হিসেবে সাধারণ পাসপোর্টে ফিরে যাচ্ছেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের পাসপোর্টের ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিবর্তন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

  • ১৯০০-১৯৪৭: ব্রিটিশ আমল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত পাসপোর্ট ছিল মূলত ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান পাসপোর্ট’। তৎকালীন রাজনীতিতে পাসপোর্ট পাওয়া ছিল এক দুর্লভ অধিকার।

  • ১৯৭১ ও পাসপোর্ট আদেশ: স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ‘পাসপোর্ট আদেশ’ অনুযায়ী তিন ধরনের পাসপোর্ট (সবুজ, নীল, লাল) প্রথা চালু হয়। লাল পাসপোর্ট মূলত রাষ্ট্রপ্রধান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিশেষ মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক দায়মুক্তির প্রতীক।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও এমপিদের লাল পাসপোর্ট বাতিল করে। এর দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিজ উদ্যোগে এই পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘বিরল’ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

লাল পাসপোর্টের সুবিধা বনাম সাধারণ পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা

কূটনৈতিক পাসপোর্টে বিশ্বের অধিকাংশ দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও দ্রুত কাস্টমস চেকিংয়ের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে কোনো দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে এই পাসপোর্টধারীরা বিমানবন্দরে বিশেষ নজরদারির শিকার হতে পারেন। সম্ভবত এই ঝুঁকি এড়াতেই উপদেষ্টারা সাধারণ পাসপোর্ট নিচ্ছেন, যা ব্যক্তিগত ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও প্রশ্নাতীত।


সূত্র: পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর সচিবালয় রিপোর্ট।

বিশ্লেষণ: উপদেষ্টাদের এই গণহারে পাসপোর্ট জমা দেওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া গুছিয়ে এনেছেন। তবে সম্পদের হিসাব না দিয়ে পাসপোর্ট বদলে ফেলা ভবিষ্যতে জবাবদিহিতার প্রশ্নে তাদের অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency