প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
লক্ষ্মীপুর: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রণকৌশল ও জোটবদ্ধ রাজনীতির নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও রামগতি উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল (কাপ-পিরিচ মার্কা) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজানকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাতে লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের গোডাউন রোড এলাকার বশির ভিলা হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান আরও সুসংহত হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলার রাজনীতির বিবর্তন লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় থেকেই নোয়াখালী ও বর্তমান লক্ষ্মীপুর অঞ্চল ছিল সচেতন ও বিদ্রোহী। ১৯৪৭-এর দেশভাগ পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন ও ৭০-এর নির্বাচনেও এই জনপদ গণতান্ত্রিক শক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল। ১৯৭৮ সালে বিএনপির উত্থানের পর থেকে লক্ষ্মীপুর অঞ্চলটি দলটির শক্তিশালী দুর্গে পরিণত হয়। বিশেষ করে আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং ৯১-এর নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরে পুরোনো বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এক নতুন ট্রেন্ড লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যার সবশেষ উদাহরণ সোহেলের সমর্থন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আশরাফ উদ্দিন নিজান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেলের হাতে ধানের শীষের প্রতীক তুলে দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
এ সময় শরাফ উদ্দিন আজাদ সোহেল বলেন,
"দলের ঐক্য রক্ষার্থে এবং স্বৈরতন্ত্রের অবশেষ নির্মূল করতে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। আমি রামগতি উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে আশরাফ উদ্দিন নিজানকে সমর্থন দিচ্ছি।"
এই ঐক্যবদ্ধ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, জেলা ওলামা দলের সভাপতি শাহ মোহাম্মদ এমরান, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ মেটানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিএনপির এই একক প্রার্থী নিশ্চিত করার বিষয়টি নির্বাচনী লড়াইয়ে তাদের কয়েক ধাপ এগিয়ে রাখবে। বিশেষ করে ২০২৪-এর পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেখানে ক্লিন ইমেজের প্রার্থীদের গুরুত্ব বাড়ছে, সেখানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের এই একাত্মতা ভোটারদের মনে আস্থা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি বার্তা, যুগান্তর এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন ২০২৬।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |