প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নতুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ২০২৬ সালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজপথ। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১৫ আসনে নিজের নির্বাচনি জনসংযোগ শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর উত্তর কাফরুল এলাকায় গণসংযোগের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে একটি 'ফরোয়ার্ড লুকিং' বা সম্মুখপানে অগ্রসরমান বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই জামায়াত আমির বলেন, "সারা বাংলাদেশকেই আমরা চাই ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটা ফরোয়ার্ড লুকিং বাংলাদেশ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে। পেছন নিয়ে আমরা আর কামড়াকামড়ি করতে চাই না; আর জাতিকেও আমরা বিভক্ত করতে চাই না। আমরা সবাই মিলেমিশে সামনে এগোতে চাই।" তাঁর এই বক্তব্যে ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে, যা বিগত দশকের বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার এক সাহসী ইঙ্গিত।
নির্বাচনি মাঠে সুস্থ ধারার প্রতিযোগিতার উদাহরণ তৈরি করে ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থীর প্রতি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, "আমার একজন বিশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী এখানে আছেন। তাকে আমি ওয়েলকাম করি। আসেন ময়দানে, সুন্দরভাবে, ভদ্রভাবে, শান্তভাবে আমরা প্রচার চালাই। আস্থার ভার নিজের হাতে না নিয়ে জনগণের ওপর রাখি। জনগণ যাকে পছন্দ করবে, আমরা সবাই মিলে তাকেই পছন্দ করব।" ২০২৬ সালের এই রাজনৈতিক শিষ্টাচার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এলাকার সমস্যাগুলো তুলে ধরে জামায়াত আমির তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা বা 'ভিশন' তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
অবকাঠামো: জলাবদ্ধতা নিরসন ও রাস্তাঘাটের আমূল পরিবর্তন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: মানসম্মত হাসপাতাল ও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।
বিনোদন ও জীবনযাত্রা: পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পার্ক এবং জনসাধারণের ব্যায়ামের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ। তিনি জানান, এই এলাকা নিয়ে একটি বিশেষ 'রূপকল্প' তৈরি করা হয়েছে যা তিনি নির্বাচিত হলে বাস্তবায়ন করবেন।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষের মূল দাবি ছিল স্বায়ত্তশাসন ও অধিকার রক্ষা। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল সামাজিক সাম্য ও মানবিক মর্যাদা।
তবে আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় যাওয়ার যে সংঘাতময় রাজনীতি বাংলাদেশ দেখেছে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে ডা. শফিকুর রহমানের 'পেছন নিয়ে না পড়ে থাকার' ঘোষণাটি ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি পরিবর্তনের এক বড় ধাপ। কাফরুল উচ্চবিদ্যালয়ের শিশুদের উষ্ণ অভ্যর্থনায় অভিভূত আমির বলেন, "এলাকার প্রতিটি সমস্যাকে নিজের মনোজগতে তুলে এনেছি।"
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য মূলত ২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। যেখানে দলগুলো এখন আর একে অপরকে শত্রু নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে। এটি একটি স্থিতিশীল ও উন্নত বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক।
সূত্র: সরাসরি জনসংযোগ ও নির্বাচনি বক্তব্য, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া উইং এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |