| বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের মাইলফলক: ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল রাজস্ব |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 2480417 বার পঠিত
পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের মাইলফলক: ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল রাজস্ব |
ছবির ক্যাপশন: পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের নতুন রেকর্ড: ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে মাইলফলক

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: দেশের ইতিহাসে অন্যতম মেগা প্রকল্প পদ্মা বহুমুখী সেতু টোল আদায়ের ক্ষেত্রে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। উদ্বোধনের পর থেকে আজ পর্যন্ত সেতুটি থেকে সংগৃহীত মোট টোলের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিএবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিপ্লবিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক প্রভাব

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সাথে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিতকারী এই সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩ হাজার কোটি টাকার এই রাজস্ব আদায় দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের দিকনির্দেশনা এবং সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সেতুটি চালুর ফলে যাতায়াতের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহণে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ডিজিটাল টোল সিস্টেমের সুফল

পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে (মাওয়া ও জাজিরা) স্থাপিত অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ETC) পদ্ধতি টোল আদায় কার্যক্রমকে দ্রুততর করেছে। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (RFID) কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের ফলে যানবাহনগুলোকে প্লাজায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। এই আধুনিকায়নই দ্রুততম সময়ে ৩ হাজার কোটি টাকার মাইলফলক ছোঁয়ায় বড় ভূমিকা রেখেছে।

পদ্মা সেতুর এই অর্জনের জন্য গাড়ির মালিক, চালক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

পদ্মা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের স্বপ্ন এ অঞ্চলের মানুষের শত বছরের। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ আমলেও খরস্রোতা পদ্মা পাড়ি দেওয়া ছিল এক দুঃসাধ্য কাজ। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই নদী ছিল দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে যাতায়াতের প্রধান অন্তরায়। ১৯৭০-এর দশকে প্রথমবার পদ্মা সেতুর প্রয়োজনীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচিত হয়।

দীর্ঘ লড়াই ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে ২০২২ সালে সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ার পর ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার যুগেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে দক্ষিণবঙ্গে শিল্পাঞ্চল গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ৩ হাজার কোটি টাকার এই রাজস্ব আদায় প্রমাণ করে যে, সঠিক ব্যবস্থাপনা থাকলে বড় প্রকল্পগুলো দেশের অর্থনীতিতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।

বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩ হাজার কোটি টাকার টোল আদায়ের এই গতি বজায় থাকলে সেতুটি নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণের টাকা নির্ধারিত সময়ের আগেই পরিশোধ করা সম্ভব হতে পারে। ২০২৬ সালের পরবর্তী কয়েক বছরে টোল আদায়ের এই হার আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ মোংলা ও পায়রা বন্দরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে পদ্মা সেতুই প্রধান সংযোগ পয়েন্ট।


সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (BBA) প্রেস রিলিজ, এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর সরকারি তথ্য বিবরণী।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency