প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন বাঁক বদলের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বাড়ছে আলোচনা। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই আজ সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৈঠকে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং মাঠ প্রশাসনের বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণ।
এর আগে রোববার রাতেই আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, তারা নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতের নানা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলবেন। বৈঠকে এনসিপি নেতারা দাবি করেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত হয়ে যেন প্রশাসন কাজ করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ দেশের মানুষ বারবার শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন ও দেশভাগ: বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এই জনপদে স্বায়ত্তশাসনের দাবি দানা বাঁধে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পর্যন্ত সময়কাল ছিল ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হওয়ার লড়াই।
১৯৫২ - ১৯৭১: ভাষা থেকে স্বাধীনতা: পাকিস্তানের শোষণের বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল প্রথম শক্তিশালী প্রতিবাদ। এরপর ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
১৯৭৫ ও ৯০-এর পরিবর্তন: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি এবং পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয়।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব: দীর্ঘ দেড় দশকের একদলীয় শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে। এই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ আজ রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এনসিপির বৈঠকের ঠিক আগের দিন রোববার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা। তারা অভিযোগ করেন, সারা দেশে বর্তমানে কর্মরত অনেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা একটি নির্দিষ্ট দলের (বিএনপি) প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। জামায়াত নেতারা ইতিমধ্যেই এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন এবং তা সরকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। তাদের মতে, নির্বাচনের আগে যদি এই ‘দলবাজ’ কর্মকর্তাদের সরানো না হয়, তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাচ্ছেন। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে দেশ এখন তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে: ১. একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন। ২. আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি। ৩. প্রশাসনের সর্বস্তরে সংস্কার আনা।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার কোনো নির্দিষ্ট দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে না। বরং রাষ্ট্র সংস্কারই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে ধৈর্য ধরার এবং সংস্কার কাজে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এনসিপি এবং জামায়াতের মতো দলগুলো যখন মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ১৯০০ সালের সেই ব্রিটিশ বিরোধী চেতনা থেকে ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন—বাঙালি জাতি বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপস করে না। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই কেবল একটি ক্ষমতা বদলের মাধ্যম নয়, বরং এটি হবে ‘নতুন বাংলাদেশের’ ভাগ্য নির্ধারণের পরীক্ষা।
সূত্র: যুগান্তর অনলাইন, বিএসএস (BSS), বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ এবং ব্যক্তিগত সংগৃহীত তথ্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |