| বঙ্গাব্দ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন সাবেক স্টেট সেক্রেটারির বৈঠক: ২০২৬ নির্বাচনের নতুন সমীকরণ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-01-2026 ইং
  • 2633861 বার পঠিত
জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন সাবেক স্টেট সেক্রেটারির বৈঠক: ২০২৬ নির্বাচনের নতুন সমীকরণ
ছবির ক্যাপশন: জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন সাবেক স্টেট সেক্রেটারির বৈঠক

ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ: জামায়াত কার্যালয়ে মার্কিন প্রতিনিধি দল, নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদেশি কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদের তৎপরতা তুঙ্গে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারি মি. অ্যালবার্ট টি. গম্বিস।

বৈঠকের আলোচনার মূল নির্যাস

দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন মি. গম্বিস। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে: ১. বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি: ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্রের সংস্কার ও স্থিতিশীলতা। ২. আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং প্রস্তাবিত গণভোটের যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা। ৩. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও কার্যকর করার অঙ্গীকার।

প্রতিনিধি দলে কারা ছিলেন?

মার্কিন প্রতিনিধি দলে মি. গম্বিসের সঙ্গে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মি. মোর্স এইচ. ট্যান, মুসলিম উম্মাহ অব নর্থ আমেরিকার সেক্রেটারি জেনারেল আরমান চৌধুরী এবং নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ফয়সাল আলম। জামায়াতের পক্ষ থেকে আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেমসহ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাঙালি জাতির রাজনৈতিক বিবর্তনে বৈদেশিক শক্তির প্রভাব সবসময়ই অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। ১৯০০-এর দশকের শুরুর দিকে যখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে, তখন থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি এই অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণে ভূমিকা রেখেছে। ১৯৪৫-পরবর্তী স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল ভিন্নধর্মী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে জামায়াতে ইসলামী একটি প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিতে নানা উত্থান-পতন দেখা গেছে। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সরাসরি জামায়াত কার্যালয়ে মার্কিন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফর এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। ১৯০০ সাল থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ইসলামপন্থী দলের কার্যালয়ে মার্কিন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির এমন সফর বিরল এবং এটি আন্তর্জাতিক মহলে জামায়াতের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন।

বিশ্লেষকদের অভিমত

গুগল অ্যানালাইসিস এবং সাম্প্রতিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি ‘মডেল নির্বাচন’ হিসেবে দেখতে চায় বিশ্ববাসী। মার্কিন প্রতিনিধি দলের এই সফর প্রমাণ করে যে, তারা বাংলাদেশের প্রতিটি প্রধান রাজনৈতিক অংশীজনদের সাথে সরাসরি যুক্ত থেকে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ সুগম করতে আগ্রহী। বিশেষ করে প্রস্তাবিত গণভোট নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের কৌতূহল আগামীর রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নিতে পারে।


সূত্র: ১. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ (প্রেস বিজ্ঞপ্তি, ১১ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট। ৩. ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট আর্কাইভ ও সাউথ এশিয়ান পলিটিক্যাল অ্যানালাইসিস (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency