| বঙ্গাব্দ

১৮ এপ্রিল শুরু ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট: ফ্লাইট বণ্টনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-01-2026 ইং
  • 2665862 বার পঠিত
১৮ এপ্রিল শুরু ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট: ফ্লাইট বণ্টনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নতুন নীতিমালা
ছবির ক্যাপশন: হজ ফ্লাইট

১৮ এপ্রিল থেকে শুরু ২০২৬ সালের হজ ফ্লাইট: এজেন্সি ও এয়ারলাইনসকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশনা

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: হিজরি ১৪৪৭ শিক্ষাবর্ষ বা ২০২৬ সালের হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে। ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ও সৌদি সরকারের গাইডলাইন কঠোরভাবে অনুসরণ নিশ্চিত করতে হজ এজেন্সি এবং বিমান সংস্থাগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

টিকিট ইস্যু ও ফ্লাইট বণ্টনে নতুন নিয়ম রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হজ এজেন্সি মালিক এবং হজযাত্রী পরিবহণকারী তিনটি এয়ারলাইনসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এক সার্ভিস কোম্পানির হজযাত্রীদের একই ফ্লাইটে পাঠাতে হবে।

এছাড়া ‘হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ২০২৬’ অনুযায়ী টিকিটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে নিচের শর্তগুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:

  • মধ্যবর্তী পর্যায়: প্রতিটি এজেন্সির মোট হজযাত্রীর কমপক্ষে ২০ শতাংশ প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী সময়ে পাঠাতে হবে।

  • প্রথম ও শেষ পর্যায়: ফ্লাইটের প্রথম ও শেষ পর্যায়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ হজযাত্রী পাঠানো যাবে।

  • সীমা নির্ধারণ: কোনো এজেন্সিই প্রথম বা শেষ পর্যায়ে ৩০ শতাংশের কম কিংবা ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করতে পারবে না।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬ বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০-এর দশকে) বাংলা অঞ্চল থেকে হজ যাত্রা ছিল অত্যন্ত দুর্গম ও দীর্ঘমেয়াদী। তখন জলপথে জাহাজই ছিল একমাত্র ভরসা। চট্টগ্রাম বা কলকাতা বন্দর থেকে জাহাজে চড়ে সৌদি আরব পৌঁছাতে সময় লাগত কয়েক সপ্তাহ। ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৭১-এর স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে।

১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ ফ্লাইট চালু হয়। ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে বেসরকারি এজেন্সিগুলোর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়। তবে বিশৃঙ্খলা দমনে ২০০৬ সালে প্রথম হজ নীতি ও ২০০৯ থেকে ডিজিটাল হজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৪-২৫ সালের সংস্কারের পর ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনাকে শতভাগ স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নতুন এই কঠোর গাইডলাইন কার্যকর করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালে হজযাত্রীদের প্রি-ইমিগ্রেশন সেবা সহজতর করতে ‘মক্কা রুট ইনিশিয়েটিভ’ আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।

এয়ারলাইনস ও এজেন্সিগুলোর প্রস্তুতি এবারও বাংলাদেশ বিমান, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইনস (সাউদিয়া) এবং ফ্লাইনাস হজযাত্রী পরিবহণে নিয়োজিত থাকবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ফ্লাইটের সিডিউল বিপর্যয় এড়াতে এবং হাজিদের সৌদি আরবে আবাসন বা মোয়াল্লিম সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে একই সার্ভিস কোম্পানির হাজিদের বিচ্ছিন্নভাবে পাঠানো যাবে না।


সূত্র: ১. ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হজ শাখা (স্মারক নং-২০২৬/০১১)। ২. বাংলাদেশ হজ অফিস (ঢাকা ও জেদ্দা রিপোর্ট)। ৩. হজ গাইডলাইন ও ঐতিহাসিক হজের বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency