বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়: ভারপ্রাপ্ত থেকে পূর্ণাঙ্গ ‘চেয়ারম্যান’ হলেন তারেক রহমান
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫) দলটির শীর্ষ পদটি শূন্য হয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর (২০২৫) তারেক রহমান দেশে ফেরার পর থেকেই দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছিল।
আজকের বৈঠকের পর দলটির এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, "বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।"
তারেক রহমানের রাজনীতিতে আসা এবং আজকের এই শীর্ষ অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি ছিল দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়:
শুরু: ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান।
তৃণমূল সফর: ২০০২ সালে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার পর ২০০৫ সালে দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করেন।
নির্বাসন ও ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব: ২০০৭ সালের ১/১১ সরকারের সময় গ্রেপ্তার ও পরে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন। ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তিনি দলের ‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান’ মনোনীত হন।
২০২৬-এর নতুন লক্ষ্য: দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার পর আজ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সর্বোচ্চ পদে আসীন হলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তারেক রহমানের এই অভিষেক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, দলের প্রার্থীদের পোস্টারে কেবল ‘দলীয় প্রধান’-এর ছবি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তারেক রহমানের এই পদায়ন প্রচারণায় বাড়তি গতি যোগ করবে। তবে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তার আসন্ন উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত হওয়া এবং দেশজুড়ে চলা সহিংসতা (শহীদ হাদি ও মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড) তাঁর নেতৃত্বের জন্য প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি আন্দোলনই ছিল শোষণের বিরুদ্ধে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী চেতনার যে উত্তরাধিকার, তা আজ ২০২৬ সালের এই ‘নতুন বাংলাদেশ’-এ তারেক রহমানের নেতৃত্বের মাধ্যমে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর অপেক্ষায়।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি (৯ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. যুগান্তর অনলাইন ও সমকালীন রাজনৈতিক বুলেটিন। ৩. বিএনপি মিডিয়া সেল ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রেস ব্রিফিং।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |