কুমিল্লা-৪ আসনে নাটকীয় মোড়: হাসনাতের মনোনয়ন বাতিলের আবেদন, ঋণ খেলাপির দায়ে মঞ্জুরুল মুন্সীর পথ রুদ্ধ
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ মুহূর্তেই বদলে গেছে। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি, ২০২৬) নির্বাচন কমিশনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেছেন বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। অন্যদিকে, ঋণ খেলাপির তালিকায় নাম থাকায় মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এক আদেশে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশটি স্থগিত করেছেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। আদালতের এই আদেশের ফলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বর্তমানে একজন ‘ঋণ খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত। এর ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট হয়েছে।
ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই আজ হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন করেছেন বিএনপি প্রার্থী, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আজ ছিল মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ দিন। ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই আপিলগুলোর শুনানি চলবে।
এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এবারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত প্রার্থী। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই নেতা দেবিদ্বার আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সমন্বিত প্রার্থী হিসেবে সমর্থন পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। হাসনাতের হলফনামা ও সম্পদের হিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগে থেকেই কৌতূহল ছিল, এখন তার মনোনয়নপত্র বাতিলের আবেদন সেই কৌতূহলকে আইনি লড়াইয়ে রূপ দিল।
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিকাশ ঘটে। দেবিদ্বার আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার ও নেতাদের লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল জুড়ে চলা সংস্কার কার্যক্রমের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে 'দ্বিতীয় স্বাধীনতার' পর প্রথম গণতান্ত্রিক পরীক্ষা হিসেবে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের যে চেতনা, ২০২৬ সালের এই তরুণ নেতৃত্ব (যেমন হাসনাত আব্দুল্লাহ) সেই চেতনার আধুনিক রূপকার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। অন্যদিকে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মতো প্রবীণ নেতাদের ঋণ খেলাপির কারণে ছিটকে পড়া রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করছে।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির বিকল্প কৌশল কী হবে, তা নিয়ে চলছে জল্পনা। অন্যদিকে হাসনাত আব্দুল্লাহর জনপ্রিয়তা ও তারুণ্যের জোয়ার নির্বাচনে তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে। তবে নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে হাসনাতের মনোনয়নপত্র টিকে থাকে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন ও সুপ্রিম কোর্ট বিট (৯ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। ৩. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) আপিল বিভাগ ডাটাবেজ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |