ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদের চমক: সম্পদ ও নাগরিকত্ব ছেড়ে ভোটের লড়াইয়ে
প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন উৎসাহ দেখা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। সম্প্রতি দাখিল করা তার নির্বাচনী হলফনামা থেকে উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য।
শামা ওবায়েদ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লড়াইয়ে নামার আগে বড় একটি বাধা দূর করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন, তবে দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় গত ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে স্বচ্ছতা ও দেশপ্রেমের বিষয়টি ভোটারদের কাছে প্রধান্য পাচ্ছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে শামা ওবায়েদের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তার কর্মী-সমর্থকরা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, শামা ওবায়েদ পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বর্তমানে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আয়ের চিত্র: ২০১৮ সালে শামা ওবায়েদের বার্ষিক আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা। ২০২৫ সালের শেষ দিকে এসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে তার বার্ষিক আয় কমেছে প্রায় ৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
সম্পদ বৃদ্ধি: আয় কমলেও তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকায়।
ঋণমুক্তি: ২০১৮ সালে তার নামে সাউথইস্ট ব্যাংকে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ থাকলেও ২০২৬-এর নির্বাচনের হলফনামায় তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত বলে দাবি করেছেন।
বাঙালির রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস অনেক গভীর। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের পথ ধরে ১৯৭১ সালে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির উত্থান হয়। ফরিদপুর অঞ্চলটি বরাবরই বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে শামা ওবায়েদের পিতা ওবায়েদুর রহমান ছিলেন এই দলের একজন প্রভাবশালী নেতা।
২০১৮ সালের একতরফা নির্বাচনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি 'রিসেট বাটন' হিসেবে কাজ করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে চলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে দেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উৎসব হিসেবে দেখছে। শামা ওবায়েদের মতো তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্বের অংশগ্রহণ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফরিদপুর-২ আসনের ভোটাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা প্রার্থীর স্বচ্ছতা ও বিগত সাত বছরে সম্পদের হিসাব নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। শামা ওবায়েদ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অকৃষিজমি এবং বনানীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের তথ্য দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াই নয়, বরং ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের এক আধুনিক রূপান্তর। ২০২৬ সালে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন ছাত্র-জনতা দেখেছে, শামা ওবায়েদ সেই পথেই হাঁটবেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: ১. নির্বাচন কমিশন (EC) বাংলাদেশ, ২০২৬ নির্বাচনী হলফনামা ডাটাবেজ। ২. যুগান্তর অনলাইন ও সমকালীন রাজনৈতিক বিশেষ বুলেটিন। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (২০২৪-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |