প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পটুয়াখালীর বাউফল অঞ্চলটি বরাবরই বেশ সচেতন ও সক্রিয়। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষের অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমান ২০২৫-২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও সেই একই সাহসিকতা ও ত্যাগের মানসিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, "শাহাদাতের তামান্না মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। ইসলামের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করতে পারার চেয়ে বড় শক্তি পৃথিবীতে আর কিছু নেই।"
বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পটুয়াখালীর বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মই মানুষের পরিচয় ড. মাসুদ তাঁর বক্তব্যে ৩২ বছরের যুবক ওসমান হাদির জীবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হাদি কোনো বড় দলের শীর্ষ নেতা ছিলেন না, কিন্তু তার কর্ম ও আদর্শ পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বয়স বা দলগত অবস্থান নয়, বরং মানুষের কর্মই তাকে অমর করে রাখে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, একজন ওসমান হাদিকে হত্যা করা গেলেও তাঁর আদর্শ থেকে লক্ষ লক্ষ ওসমান হাদির জন্ম হয়েছে।
ভোটের অধিকার ও প্রতিরোধের ডাক ২০২৪-২৫ সালের সংস্কার পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ড. মাসুদ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "এখন নাকি মা-বোনদের ভোট দিতে যেতে দেওয়া হবে না। ওসমান হাদি যেমন ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন দিয়েছেন, তেমনি জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে যদি আমাদের জীবন দিতে হয়, আমরা প্রস্তুত আছি।" তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে বাউফলে আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ সোচ্চার।
জালিমের সঙ্গেও ইনসাফের শিক্ষা বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ইনসাফের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ওসমান হাদি নিজের শত্রুর সঙ্গেও ন্যায়বিচার করার অঙ্গীকার করেছিলেন। যারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত গালিগালাজ বা হুমকি দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও ইনসাফ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দাবি ও আল্টিমেটাম ওসমান হাদির হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের জোরালো দাবি জানিয়ে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, যতদিন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের আসামিদের আইনের আওতায় না আনা হবে, ততদিন বাউফলের চলমান আন্দোলনে তাঁদের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।
উল্লেখ্য যে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাঙালির অধিকার আদায়ের যে নিরন্তর সংগ্রাম, তারই একটি ধারাবাহিক অংশ হিসেবে বর্তমানের এই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ২০২৬ সালের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাউফলসহ সারা দেশে জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা এখন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে।
সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সংবাদদাতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |