ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০২৫ (বিশেষ প্রতিবেদন) – দেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকার আর নেই। নিখোঁজের একদিন পর শুক্রবার মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বলাকির চর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরিবার ও সহকর্মীরা বলছেন, জীবনের শেষ সময়ে হতাশা ও দুঃখই তাকে ঘিরে ধরেছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে অফিসে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি। এরপর আর ফেরেননি। রাতে না ফেরায় তার ছেলে ঋত সরকার রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। শুক্রবার বিকেলে নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি মিলিয়ে পরিবারের কাছে খবর দিলে তারা শনাক্ত করেন লাশটি সিনিয়র সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের।
নিখোঁজ হওয়ার দিন সকালেই (২১ আগস্ট) বিভুরঞ্জন সরকার স্থানীয় গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘খোলা চিঠি’ নামে একটি লেখা পাঠান। সেখানে ফুটনোটে উল্লেখ করেন—“জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটা ছাপতে পারেন।”
চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন:
“আমার জীবনে কোনো সাফল্যের গল্প নেই। সাংবাদিক হিসেবেও কোনো শক্ত ডাল ধরতে পারিনি। আমার কোথাও না কোথাও বড় ঘাটতি আছে। এই ঘাটতি আর কাটিয়ে ওঠা হলো না। দুঃখই হোক আমার জীবনের শেষ সঙ্গী। আর পৃথিবীর সকল প্রাণী সুখী হোক।”
এই লেখায় তিনি নিজের কর্মজীবনের নানা আক্ষেপ, অর্থকষ্ট, পরিবারের সমস্যাগুলো, এমনকি বর্তমান ও অতীত সরকারের সময় গণমাধ্যমের সংকট নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।
‘খোলা চিঠি’-তে তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বহু সাংবাদিক সুযোগ পেলেও তিনি পাননি। প্লট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেও ব্যর্থ হন। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বই লিখলেও কোনো রয়্যালটি পাননি।
তিনি লেখেন, “শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে একবার সিঙ্গাপুর যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিছু হাতখরচ পেয়েছিলাম, যা কোট-প্যান্ট-জুতো কিনতেই শেষ হয়ে যায়। সারাজীবন স্যান্ডেল পরেই কাটল।”
অর্থকষ্ট নিয়েও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বহু লেখা লিখেও সম্মানী পাননি। অনেক পত্রিকা বছর বছর লেখা ছাপলেও কোনো অর্থ দেয়নি।
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন তিনি। লেখেন, “সরকার পরিবর্তনের পর অবস্থা আরও কাহিল হয়েছে। নির্বাহীরা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। প্রেস বিভাগ মনখোলা নয়। কোনো লেখা প্রকাশ হলেই ফোন আসে।”
তার অভিযোগ—একটি লেখার জন্য অনলাইন বিভাগকে চাপের মুখে পড়তে হয়েছিল। আরেকটি লেখায় সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে দিল্লি পাঠিয়েছে উল্লেখ করার পর সরকারের চাপও আসে।
বিভুরঞ্জন সরকার জন্মগ্রহণ করেন ১৯৫৪ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে প্রায় পাঁচ দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতা করেছেন।
তিনি দৈনিক আজাদ, দৈনিক মাতৃভূমি, সাপ্তাহিক চলতিপত্রের সম্পাদক, সাপ্তাহিক একতা ও সাপ্তাহিক মৃদুভাষণের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তারিখ ইব্রাহিম ছদ্মনামে তার লেখা রাজনৈতিক নিবন্ধগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।
সর্বশেষ তিনি আজকের পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করছিলেন।
তার ভাই চিররঞ্জন সরকার বলেন, “ভাইকে নিতে মুন্সিগঞ্জ যাচ্ছি। পোস্টমর্টেম শেষে লাশ আমাদের কাছে দেওয়া হবে।”
সহকর্মীরা জানান, জীবনের শেষ দিনগুলোতে হতাশা আর আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন তিনি।
বিবিসি বাংলা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, মাঠপর্যায়ের পুলিশ ও পারিবারিক তথ্য
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |