প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: রাজধানী ঢাকার আকাশ-বাতাস আজ এক বিষণ্ণতায় ভারী হয়ে ছিল। বাংলাদেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চিরকালীন অভিভাবক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়বেলায় রচিত হলো এক অনন্য মানবিক ইতিহাস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে জানাজার ঠিক আগমুহূর্তে পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের হয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে উপস্থিত লাখো জনতার সামনে তারেক রহমানের এই আবেগঘন বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
১৯৫০-এর দশকে যখন বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের সংগ্রাম শুরু হয়, তখন থেকেই এ দেশের মানুষের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ছিল শোষণমুক্ত ও মানবিক এক রাষ্ট্র। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়েই খালেদা জিয়া ছিলেন অকুতোভয়। ১৯৫০ সাল পরবর্তী ইতিহাসে জিয়া পরিবার এবং খালেদা জিয়ার যে প্রভাব, তার শেষ অঙ্কটি আজ এক মানবিক আবহে পূর্ণতা পেল। ২০২৫ সালের এই বিদায় বেলায় তারেক রহমানের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, ক্ষমতায় থাকা বা রাজপথে লড়াই করার চেয়েও মানুষের ভালোবাসা ও ক্ষমা লাভ করাই রাজনীতির বড় সার্থকতা।
জানাজার ঠিক আগে লণ্ডন থেকে ভার্চুয়ালি এবং সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন:
“আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। আপনারা আমার মরহুমা মায়ের জন্য দোয়া করবেন। জীবিত থাকাকালীন আমার মায়ের কোনো ব্যবহারে, কোনো কথায় যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, তাহলে তার পক্ষ থেকে আমি আপনাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। দোয়া করবেন আল্লাহতায়ালা যেন তাকে বেহেস্ত দান করেন।”
তিনি আরও যোগ করেন, যদি কারও কোনো ঋণ থেকে থাকে তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তিনি তা পরিশোধের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এটি মূলত ১৯৫০ সাল পরবর্তী বাংলাদেশের কোনো শীর্ষ নেতার জানাজায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিরল ও বিনয়ী বার্তা।
বেলা ৩টা ৩ মিনিটে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জানাজা শুরু হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক। এই ঐতিহাসিক জানাজায় উপস্থিত ছিলেন:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
তিন বাহিনীর প্রধান এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ।
বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূতগণ।
জানাজা শুরু হওয়ার সময় বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট এমনকি শাহবাগ পর্যন্ত মানুষের তিল ধারণের জায়গা ছিল না। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে কড়া সামরিক পাহারায় মরদেহ নিয়ে আসার দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল মূলত সংঘাত ও বিভাজনের। কিন্তু ২০২৫ সালের এই শেষ দিনে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে বিরোধী দলের সকল নেতার অংশগ্রহণ এবং তারেক রহমানের ক্ষমা প্রার্থনা—একটি স্থিতিশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বাংলাদেশের ইঙ্গিত দেয়। এটিই সেই ‘নতুন বাংলাদেশ’ যা ২০২৪-এর ছাত্ররা রক্ত দিয়ে অর্জন করেছিল।
সূত্রসমূহ: ১. বিএনপি কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেল ও তারেক রহমানের ভার্চুয়াল ভাষণ (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর অনলাইন লাইভ কাভারেজ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাস (গুগল এনালাইসিস)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |