| বঙ্গাব্দ

খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র: মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ঐতিহাসিক প্রতিক্রিয়া

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 31-12-2025 ইং
  • 1907661 বার পঠিত
খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র: মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ঐতিহাসিক প্রতিক্রিয়া
ছবির ক্যাপশন: খালেদা জিয়ার জানাজায় জনসমুদ্র

খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক বিদায়: ‘জনতার এই স্রোত কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: রাজধানী ঢাকা আজ পরিণত হয়েছিল এক জনসমুদ্রে। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজাকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫) যে জনস্রোত দেখা গেছে, তাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন বিশিষ্টিজনরা। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও শ্যামলী পর্যন্ত বিস্তৃত এই ভিড় প্রমাণ করেছে দেশের মানুষের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা গভীর।

১৯৫০-২০২৫: ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে স্বাধিকার আন্দোলনের যে চেতনা তৈরি হয়েছিল, তার পূর্ণতা এসেছিল ১৯৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধে। সেই স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় ১৯৮১ সালে এ দেশবাসী এক অভূতপূর্ব জনস্রোত দেখেছিল। ঠিক ৪৪ বছর পর, ২০২৫ সালের এই শেষ দিনে এসে তার সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় আবারও ইতিহাসের সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল। ১৯৫০ থেকে ২০২৫—এই দীর্ঘ ৭৫ বছরে বাংলাদেশ অনেক নেতার উত্থান-পতন দেখলেও, এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা খুব কম নেতার ভাগ্যেই জুটেছে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আবেগঘন বার্তা

বেগম খালেদা জিয়ার এই বিদায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বিশেষ স্ট্যাটাস দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও খ্যাতনামা নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি এই জানাজাকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে লিখেছেন:

“প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জানাজায় জাতি তাকে সবচেয়ে সম্মানের বিদায় দিয়েছিল। আজ বেগম খালেদা জিয়াকে দেওয়া হলো এক ঐতিহাসিক বিদায়। মানিক মিয়া এভিনিউ-সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু করে একদিকে সোবহানবাগ, অন্যদিকে কারওয়ান বাজার, আরেকদিকে বিজয় সরণী, শ্যামলী হয়ে এই যে জনতার স্রোত—এটা বাংলাদেশের মানুষের কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। এটা সবার ভাগ্যে জোটে না।”

জানাজার বিবরণ ও জনস্রোত

বেলা ৩টা ৩ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম প্রান্তে জানাজা শুরু হয়। জানাজায় ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক। ৫ই আগস্ট ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেখানে এই জানাজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিমত্তার প্রদর্শনী হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সাল পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম জানাজা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: আপসহীন নেত্রীর শেষ যাত্রা

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এমন একজন নেত্রী যিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ১৯৫০-এর দশকের পর থেকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্প্রবর্তনে (১৯৯১) প্রধান ভূমিকা রেখেছেন। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হয়ে যে শান্তির বাণী প্রচার করেছিলেন, আজকের এই জনস্রোত মূলত তারই প্রতিদান।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জানাজা প্রমাণ করে যে—স্বৈরাচারী শাসনের যাতাকলে পিষ্ট হওয়ার পরও কোনো নেতা যদি জনগণের জন্য আপসহীন থাকেন, তবে জনগণ তাকে এভাবেই রাজকীয় বিদায় জানায়।


সূত্রসমূহ: ১. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইল। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ (৩১ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস রিপোর্ট)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency