প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ মেঘলা ছিল না, কিন্তু শোকের কালো ছায়ায় আচ্ছন্ন ছিল কোটি মানুষের হৃদয়। ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বর, এক বিষণ্ণ বিকেলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই তাকে সমাহিত করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ চার দশকের এক বর্ণাঢ্য ও আপসহীন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র ১৯৫০-এর দশকে যখন ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধিকারের লড়াই শুরু করেছিল, বেগম খালেদা জিয়া তখন শৈশবে। ১৯৪৭-এর দেশভাগ পরবর্তী অস্থিরতা, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই বাংলাদেশের রাজনীতির মূল ধারায় তার আগমন ছিল আকস্মিক।
১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবরণের পর রাজনীতিতে তার অভিষেক ঘটে। ১৯৮২ সালে এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তার আপসহীন অবস্থান তাকে ‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি বাঁকেই তার উপস্থিতি ছিল অগ্রগণ্য। ৫ই আগস্ট ২০২৪-এ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন এবং ২০২৫ সালের শেষ দিনে এসে তিনি ইতিহাসের পাতায় স্থায়ী জায়গা করে নিলেন।
আজ বেলা ৩টা ৩ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা শুরু হয়। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষের ঢল সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে ফার্মগেট ও মিরপুর রোড পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। জানাজা শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জাতীয় পতাকায় মোড়া লাশবাহী গাড়ি জিয়া উদ্যানে পৌঁছায়।
দাফনকালে উপস্থিত ছিলেন তার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমান এবং ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা ও লাখো অনুসারী অশ্রুসিক্ত নয়নে তাকে বিদায় জানান।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে দুই নেত্রীকে কেন্দ্র করে, যাদের বিশ্ব গণমাধ্যম ‘ব্যাটলিং বেগমস’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ২০২৪-এর অভ্যুত্থান এবং ২০২৫-এ খালেদা জিয়ার প্রয়াণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক যুগের সূচনা করল। খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “যতক্ষণ বেঁচে থাকব, দেশবাসীকে ছেড়ে যাব না।” শেষ পর্যন্ত তিনি দেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে সেই কথা রক্ষা করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৫০ সাল পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে খালেদা জিয়া ছিলেন একমাত্র নেতা যিনি কখনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং নারী শিক্ষায় তার অবদান বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে ৭ শতাংশে উন্নীত করতে সাহায্য করেছিল। ২০২৫-এর এই বিদায় কেবল একজন ব্যক্তির প্রস্থান নয়, বরং একটি আদর্শিক যুগের সমাপ্তি।
সূত্রসমূহ: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন ও যুগান্তর আর্কাইভ (ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. আল জাজিরা ও রয়টার্স ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০-২০২৫ (ঐতিহাসিক পর্যালোচনা)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |