প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন সংস্কারের হাওয়া বইছে, ঠিক তখনই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এনসিপি থেকে সদ্য পদত্যাগকারী নেত্রী এবং ঢাকা-৯ (খিলগাঁও) আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর পাওয়ার সবকটি প্রযুক্তিগত পথ বন্ধ থাকায় এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের আইনি শর্ত পূরণ করা এখন অসম্ভব প্রায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে বাঙালির লড়াই ছিল মূলত ভোটাধিকার ও স্বাধিকারের। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে এদেশের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে যে বিপ্লব ঘটিয়েছিল, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল স্বচ্ছতা। এরপর ১৯৭০-এর ঐতিহাসিক নির্বাচনেও জনগণের রায়ের প্রতিফলন ঘটেছিল কোনো যান্ত্রিক বাধা ছাড়াই।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনের অন্যতম মূল দাবি ছিল ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’। কিন্তু ২০২৫ সালের আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও যখন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোটার নম্বর সংগ্রহে ‘ডিজিটাল দেয়ালের’ সম্মুখীন হতে হয়, তখন তা ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক সংগ্রামের চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সিস্টেমের এই জটিলতা নতুন প্রজন্মের সৎ ও স্বাধীন নেতৃত্বকে সংসদ থেকে দূরে রাখার একটি কৌশল হতে পারে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রধান শর্ত হলো নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ও সমর্থন। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রতিটি ভোটারের নির্দিষ্ট ‘ভোটার সিরিয়াল নম্বর’ প্রয়োজন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তাসনিম জারা অভিযোগ করেন, ভোটার নম্বর পাওয়ার যে ৫টি স্বীকৃত উপায় আছে—তার একটিও কার্যকর নেই।
তিনি বলেন, "এসএমএস, অনলাইন পোর্টাল, হেল্পলাইন কল, কিউআর কোড বা অ্যাপ—সবগুলোই এখন অচল। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের সার্ভার পরিকল্পিতভাবে ডাউন রাখা হয়েছে। ভোটার নম্বর পাওয়া এখন অসম্ভব করে তোলা হয়েছে।" খিলগাঁও এলাকায় রবিবার থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করলেও এই যান্ত্রিক সংকটে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।
বর্তমান আইনে যারা আগে সংসদ সদস্য ছিলেন, তাদের জন্য ১ শতাংশ স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু নতুন ও তরুণ প্রার্থীদের জন্য এই কঠোর নিয়ম এবং তার ওপর ইসির অসহযোগিতা নির্বাচনী সমতল ক্ষেত্র (Level Playing Field) নষ্ট করছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে যখন সবাই অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আশা করছেন, তখন সিস্টেমের এই ব্যর্থতা জনমনে সংশয় তৈরি করেছে।
সম্প্রতি কর্নেল অলি আহমেদের জামায়াত জোটে যোগদানের প্রতিবাদে আদর্শিক কারণে এনসিপি ত্যাগ করেছিলেন ডা. তাসনিম জারা। তিনি জনগণের সরাসরি প্রতিনিধি হতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার যে সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা এখন কমিশনের অবহেলায় থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সূত্র: ১. স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার প্রেস ব্রিফিং (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্বতন্ত্র প্রার্থী বিধিমালা ও অনলাইন ডাটাবেজ ম্যানুয়াল। ৩. ‘বাংলাদেশের নির্বাচনী বিবর্তন: ১৯৫০-২০২৫’ (গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |