জাতির ওপর থেকে এখনও কালো ছায়া যায়নি: ছাত্রশিবিরের সম্মেলনে জামায়াত আমির
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জাতির ওপর থেকে এখনো কালো ছায়া পুরোপুরি সরে যায়নি। এই কালো ছায়া ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামী রাজপথে সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে ২০২৬ সেশনের জন্য নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে না। আমরা এমন একটি দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা বেকার ভাতার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই; আমরা চাই দেশের প্রতিটি যুবককে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে। শিক্ষা ব্যবস্থায় যদি একটি উন্নত ও আধুনিক কারিক্যুলাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়, তবেই দক্ষ ও নৈতিক নাগরিক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দীর্ঘ দেড় দশক ধরে মিথ্যাচার, অপপ্রচার এবং ‘রগকাটা’ বা ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ ট্যাগ লাগিয়ে ছাত্রশিবিরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। আয়নাঘর বা ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়েও এই কাফেলাকে থামানো যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী যখন বাঙালির ওপর শোষণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য চাপিয়ে দিয়েছিল, তখন থেকেই এদেশের ছাত্র-জনতা প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলেছিল। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থান—প্রতিটি গণজাগরণই ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর যেভাবে গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা শুরু হয়েছিল, ঠিক একইভাবে ২০২৫ সালে এসে বাংলাদেশ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বর্তমানে একদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে যেমন নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ‘ওসমান হাদি’ হত্যার মতো ঘটনা এবং আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পেজ রিমুভের মতো ডিজিটাল সেন্সরশিপ প্রমাণ করে যে, একটি মহল এখনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জামায়াত আমিরের মতে, ১৯৫০ সালে যেমন সার্বভৌমত্বের লড়াই ছিল, ২০২৫ সালে এসে সেই লড়াই দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার ওপর।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির (২০২৬) প্রস্তাবিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত-এনসিপি জোট গঠনের প্রক্রিয়া যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন ছাত্রশিবিরের এই বিশাল সদস্য সম্মেলন রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামী এবার একক শক্তিতে এবং সমমনা দলগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় তৈরি করতে চায়।
জামায়াত আমিরের ভাষ্যমতে, জাতীয় ঐক্যই এখন সময়ের দাবি। সকল ধর্ম ও দল মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে না পারলে অর্জিত স্বাধীনতা আবারও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন (২৬ ডিসেম্বর ২০২৫) প্রেস রিলিজ। ২. বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল মিডিয়া উইং। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও আদর্শিক বিবর্তন আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |