নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রাজনীতিক ও সমন্বয়ক: গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দিচ্ছে সরকার
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সবসময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই নেতৃবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
১৯৫০-এর দশকে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে হামলার ঘটনা থেকে শুরু করে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ট্র্যাজেডি, কিংবা ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা—বাংলাদেশের রাজনীতি বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের পর যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন বা পরবর্তী সামরিক শাসন আমলেও রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল। তবে ২০২৫ সালে এসে এই প্রেক্ষাপট ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন মুক্ত পরিবেশে রাজনীতি চর্চার সুযোগ তৈরি হলেও গোপন ষড়যন্ত্র ও নাশকতার আশঙ্কা কাটেনি। এ কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক এবং প্রথিতযশা রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তায় গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ২০ জন ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা, সমন্বয়ক এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে একটি মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে।
সরকারি সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল রাজনীতিক গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন:
ডা. শফিকুর রহমান: আমীর, জামায়াতে ইসলামী।
ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি)।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ: সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু: সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ: সদস্য সচিব, এবি পার্টি।
জুনায়েদ সাকি: প্রধান সমন্বয়ক, গণসংহতি আন্দোলন।
ইতোমধ্যে সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম এবং তাসনিম জারার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন এবং জাফির তুহিনও আবেদনের তালিকায় রয়েছেন।
ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকেও বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। হাদির এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পুলিশের আইজি বাহারুল আলম জানান, যারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ (Vulnerable) অবস্থায় আছেন, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সশস্ত্র নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এসবির অতিরিক্ত আইজিপি এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ময়দান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভয়হীনভাবে চলাফেরা করার নিশ্চয়তা। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কেবল ক্ষমতাসীনদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও ২০২৫ সালের এই নতুন প্রেক্ষাপটে সরকার দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ সবাইকে সুরক্ষা দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ইতিবাচক। তবে গণপরিবহনে চলাচলকারী সমন্বয়কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি বিভাগ, ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক ও সচিবালয় ব্রিফিং রিপোর্ট। ৩. বাংলাদেশ পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেল আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |