প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক ক্ষণে দাঁড়িয়ে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখযোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে ‘বাংলাদেশের অস্তিত্বের ওপর আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেছেন, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধান উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন যে, হামলার সাথে জড়িতদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা গেছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির লড়াই শুরু হয়েছিল, তার পূর্ণতা পেয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপে ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এই জনপদ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আরেকটি মহাবিপ্লবের মাধ্যমে দেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হলেও ২০২৫ সালে এসেও সেই স্বাধীনতা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই জারি রয়েছে।
বিজয় দিবসের ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “ভয় দেখিয়ে, সন্ত্রাস ঘটিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে এই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। ১৯৫০ থেকে শুরু হওয়া আমাদের এই গণতান্ত্রিক পথচলা ২০২৫-এ এসে কোনো অপশক্তির কাছে হার মানবে না।”
প্রধান উপদেষ্টা গভীর বেদনার সঙ্গে জানান, গুরুতর আহত শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, “হাদির ওপর এই আক্রমণ আমাদের গণতান্ত্রিক চেতনার ওপর আঘাত। আমি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই—ষড়যন্ত্রকারীরা যেখানেই থাকুক, তাদের বিচার হবেই।” তিনি হাদির দ্রুত সুস্থতার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন।
২০২৫ সালের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট টেরোরিস্টরা গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন, “পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি এ দেশের পবিত্র মাটিতে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবিলা করব এবং তাদের কোনো ফাঁদে পা দেব না।”
বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সালের দীর্ঘ ৭৪ বছরের ইতিহাসে দেখা গেছে, যখনই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু হয়েছে, তখনই একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। ২০২৫ সালে এসে ইনকিলাব মঞ্চের নেতার ওপর এই হামলা সেই পুরনো ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তবে প্রধান উপদেষ্টার এই কঠোর অবস্থান ও বিজয় দিবসের ভাষণ জনগণের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ড. ইউনূসের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ফ্যাসিবাদ নির্মূলে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় (বিজয় দিবসের ভাষণ), ইনকিলাব মঞ্চের প্রেস বিজ্ঞপ্তি এবং জাতীয় সংবাদ সংস্থা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |