প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘ঢাকা ব্যাংক আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার-২০২৫’ প্রদানের জন্য মনোনীত গুণীজনদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারের আয়োজনে কবিতা বিভাগে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কবি আবদুল হাই শিকদার।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) আনন্দ আলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত সৃজনশীল ও মননশীল বইগুলোর মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে এই সম্মাননার জন্য তাদের নির্বাচিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ১৯৫০-এর দশকের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৫৭ সালের ১ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জন্মগ্রহণ করা আবদুল হাই শিকদার এমন এক সময়ে বেড়ে উঠেছেন, যখন দেশ স্বাধিকার আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সেই শৈশব থেকেই তার লেখনিতে দেশপ্রেম ও গণমানুষের অধিকারের কথা ফুটে উঠেছে।
৪৪ বছরের দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক মিল্লাত, দৈনিক বাংলা, দৈনিক আমার দেশ এবং বর্তমানে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বিবর্তনকে প্রত্যক্ষ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে তার ভূমিকা অপরিসীম।
আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার-২৫ এ কবি আবদুল হাই শিকদার ছাড়াও বিভিন্ন বিভাগে মনোনীত হয়েছেন একঝাঁক প্রতিভাবান ও প্রথিতযশা লেখক:
শিশুসাহিত্য: আমীরুল ইসলাম ও মাহবুবা চৌধুরী (যৌথভাবে)।
উপন্যাস: সাদাত হোসাইন ও শানারেই দেবী শানু (যৌথভাবে)।
প্রবন্ধ: মোহাম্মদ এজাজ ও মাহবুব আজীজ (যৌথভাবে)।
প্রথম বই শাখা: দিদারুল আলম।
আবদুল হাই শিকদারের সাহিত্যকর্মে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ছায়া সুস্পষ্ট। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে ‘আশি লক্ষ ভোর’, ‘জাতীয় কবি ও শহীদ জিয়া’, ‘খালেদা জিয়া তৃতীয় বিশ্বের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘তারেক রহমান: অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সালে এসে তার এই সাহিত্য স্বীকৃতি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি এর আগে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ভারতের চুরুলিয়া নজরুল একাডেমী পুরস্কার এবং শহীদ জিয়া স্মৃতি পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি ৫০টিরও বেশি সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। সাংবাদিকতা ও সাহিত্যের এই মেলবন্ধন তাকে সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বুদ্ধিজীবী ও লেখকদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। ২০২৫ সালের এই সাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল পরিবেশেও বাংলাদেশের সৃজনশীল ধারা অব্যাহত রয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার মাঝে এই ধরনের সাংস্কৃতিক চর্চা মুক্তবুদ্ধির চর্চাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন সুধী সমাজ। আনন্দ আলো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীঘ্রই একটি আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মনোনীতদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
সূত্র: আনন্দ আলো বিজ্ঞপ্তি, দৈনিক যুগান্তর আর্কাইভ এবং জাতীয় প্রেস ক্লাব তথ্য কোষ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |