প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রোববার রাত (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর–আইএসপিআর খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা–সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত বিবৃতি পাঠায়। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯–২৮ সেপ্টেম্বরের ধারাবাহিক উত্তেজনা ও সহিংসতা ইউপিডিএফ (মূল) ও অঙ্গসংগঠনগুলোর উসকানিমূলক কার্যকলাপের ফল; ঘটনাগুলোকে ‘পার্বত্য অঞ্চল অস্থিতিশীল করার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪: মোটরসাইকেলচালক মামুন হত্যাকে ঘিরে উত্তেজনা; পরদিনগুলোতে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও অনেকে আহত—আইএসপিআর।
২৩–২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫: খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালা এলাকায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ–অভিযোগ; সন্দেহভাজন শয়ন শীল ২৪ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার ও পরে রিমান্ডে। ২৪–২৫ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ–মানববন্ধন ও অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর: অবরোধ চলাকালে টহলরত সেনাদলের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপে ৩ সেনাসদস্য আহত; সেনাবাহিনী বলে তারা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকে।
২৭ সেপ্টেম্বর: সহিংসতা খাগড়াছড়ি পৌর এলাকাজুড়ে ছড়ায়; গুলি, ভাঙচুর, অ্যাম্বুলেন্সে হামলা, সড়ক অবরোধ—দুপুরে তা পাহাড়ি–বাঙালির সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে রূপ নেয়; খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি। রাতে যৌথবাহিনীর টানা তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
২৮ সেপ্টেম্বর (রোববার): গুইমারার রামসু বাজারে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সড়ক অবরোধ; সকাল ১০:৩০টায় ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া; সেনা সদস্যদের ওপর ইট, গুলতি, লাঠিসোঁটা দিয়ে আক্রমণে ৩ অফিসারসহ ১০ জন আহত; একই সময় রামগড়ে বিজিবির গাড়ি ভাঙচুর ও সদস্য আহতের অভিযোগ। প্রায় ১১:৩০টায় পাশের উঁচু পাহাড় থেকে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে ১০০–১৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়—নাগরিকদেরও গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানায় আইএসপিআর। বিকেল ৪:৩০টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
অভিযোগ: ইউপিডিএফ (মূল) ও সহযোগীরা নারী ও স্কুলশিক্ষার্থীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করছে; বহিরাগত সশস্ত্র ব্যক্তিদের এনে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়ার চেষ্টা। একই দিনে কাপ্তাই বিজিবি চেকপোস্টে যাত্রীবাহী বাস থেকে বিপুল দেশীয় অস্ত্র জব্দ।
অবস্থান: সব অপপ্রচার–উসকানি সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; রাজনৈতিক–সামাজিক নেতৃত্ব ও জনগণকে সংযত থাকতে আহ্বান।
খাগড়াছড়ি পৌর এলাকা, সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি ও কার্যকর রাখা হয়েছে; রামসু বাজারসহ বেশ কিছু পয়েন্টে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের খবর দিয়েছে স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যম।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, অবরোধ–সংঘর্ষের এক পর্যায়ে কমপক্ষে ৩ জন নিহত ও ৪ জন আহত হন; আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত হন। (এই তথ্যগুলো আইএসপিআরের বিবৃতির বাইরে পৃথক প্রতিবেদন থেকে সংগৃহীত।)
নোট: উপর্যুক্ত অভিযোগ–সংখ্যার অধিকাংশই আইএসপিআরের সরকারি বিবৃতি–ভিত্তিক; ইউপিডিএফের পক্ষের প্রতিক্রিয়া/ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি—পেলে হালনাগাদ করা হবে।
ঝুঁকি–চিত্র: ধর্ষণ–অভিযোগকে ঘিরে ক্ষোভ, সোশ্যাল মিডিয়া–চালিত বহিরাগত উসকানি, দ্রুত মবিলাইজেশন, এবং গণসমাবেশ–ব্লকেড—এগুলো মিলেই উত্তেজনাকে দ্রুত সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়েছে।
রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া: ১৪৪ ধারা, যৌথবাহিনীর রাত্রিকালীন টহল–কর্ডন, ও নিয়ন্ত্রিত বলপ্রয়োগ–সংযম—এই তিনটি স্তরের সংমিশ্রণে সহিংসতা স্পিলওভার হওয়া ঠেকানো হয়েছে বলে আইএসপিআরের দাবি।
এগোনোর পথ: প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাক্ট–ফাইন্ডিং (স্বতন্ত্র তদন্ত), ক্ষতিগ্রস্ত–আহতদের নিরপেক্ষ ক্ষতিপূরণ, কমিউনিটি–ডায়ালগ ও দ্রুত ডিজিটাল অপপ্রচার–কাউন্টার মেকানিজম—এগুলোই তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
১) প্রথম আলো (বাংলা): খাগড়াছড়িতে সহিংসতা নিয়ে সেনাবাহিনীর বিবৃতি—আইএসপিআর–এর পূর্ণ বিবৃতি–সারসংক্ষেপ।
২) The Daily Star (English): ISPR says UPDF incited violence in Khagrachhari—রামসু বাজারে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রে গুলি, সেনা–বিজিবি সদস্য আহত, ১৪৪ ধারা।
৩) Dhaka Tribune (English): Army issues statement on communal violence in Khagrachhari—ঘটনাপঞ্জি, গ্রেপ্তার, ব্লকেড, অগ্নিসংযোগ–বিষয়ক বিস্তারিত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |