প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা-৮ (স্বতন্ত্র) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা তফসিল পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সময় ও যান: শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) রাত ৮টা ৫ মিনিটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আইসিইউ সংবলিত বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়।
প্রাথমিক চিকিৎসা: এর আগে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্রুত তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ পূর্বে সাংবাদিকদের জানান, হাদিকে হাসপাতালে আনার সময় তাঁর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। এমনকি জীবন রক্ষায় তাঁকে সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দিতে হয়েছিল।
ডা. মোস্তাক আরও জানান, তাঁর মাথার ভেতরে গুলি থাকার পাশাপাশি কানের আশেপাশেও গুলির আঘাত রয়েছে।
হামলার ধরন এবং ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরে ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম নেতা আব্দুল আল নোমান ঢামেকে সাংবাদিকদের বলেন:
ঘটনাস্থল: জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট রোড এলাকায় প্রচার চালানোর প্রস্তুতিকালে এ ঘটনা ঘটে।
হামলাকারী: মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুইজন দুর্বৃত্ত গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আঘাতের স্থান: হাদিকে কানের নিচে গুলিবিদ্ধ করা হয় এবং প্রথমে তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায়।
তবে এই ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, 'মোটরসাইকেলে করে আসা ২ জন সম্প্রতি হাদির প্রচারণার টিমে যোগ দিয়েছিল' (১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম)। যদি এই তথ্য সত্য হয়, তবে এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা গভীর ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচনের সময় ভিন্নমতের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা বহুবার ঘটেছে। ১৯৫০ সালের দশক থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, এবং পরবর্তী গণতান্ত্রিক শাসনকালেও রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিরোধীদের দমনের ইতিহাস রয়েছে।
জুলাই বিপ্লব (২০২৪): ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা। শরিফ ওসমান হাদির ওপর এই হামলা সেই লক্ষ্য এবং নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করল। একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার প্রস্তুতি পর্বে এমন পরিকল্পিত হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, দেশের রাজনৈতিক সহিংসতা এবং ভিন্ন মত দমনের প্রবণতা এখনো বিদ্যমান।
শরিফ ওসমান বিন হাদির পরিবারের সিদ্ধান্ত ও হাসপাতাল স্থানান্তর সংক্রান্ত তথ্য (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতা আব্দুল আল নোমানের বক্তব্য।
হামলাকারীদের প্রচারণায় যুক্ত থাকার সূত্র (১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৪২ পিএম)।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |