প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঝিনাইদহ: তফসিল ঘোষণার পর সারাদেশে নির্বাচনের উত্তাপ শুরু হলেও, প্রার্থীদের ওপর হামলা ও নিরাপত্তার প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণঅধিকার পরিষদ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেলে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজারে তফসিল পরবর্তী আনন্দ সমাবেশ শেষে এক প্রতিক্রিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন।
গুলিবর্ষণের ঘটনাকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হাদির বলিষ্ঠ ভূমিকার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, "আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে হাদি বলিষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। এ জন্যই তার ওপর এমন হামলা করা হয়েছে।" তিনি স্পষ্ট করে জানান, "এ নির্বাচন তখনই সুষ্ঠু হবে, যখন প্রার্থীদের নিরাপত্তা এই সরকার নিশ্চিত করতে পারবে এবং নির্বাচন কমিশন কঠোরভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে।"
রক্তাক্ত ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি ক্ষমতাসীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় আলটিমেটাম দেন:
"আজকে আমার ভাই রক্তাক্ত, বাঁচবে কী মরবে আমরা কেউ জানি না। আগামীকাল তো আমিও মরে যেতে পারি। আগামীকাল তো আমিও গুলিবিদ্ধ হতে পারি। সুতরাং আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলব— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি এই দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করতে না পারেন, আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে।"
রাশেদ খান নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং একটি ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন। তিনি দাবি করেন, "আওয়ামী লীগের এবং ভারতের একটি চক্রান্ত রয়েছে নির্বাচন বানচাল করার। আর এই লক্ষ্যে ৫০ জন প্রার্থীকে টার্গেট করে কিলিং করা হবে। এ ধরনের ঘটনা ঘটা শুরু হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, এই হামলাগুলো মূলত বিরোধী পক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে:
"এ ঘটনা কেন ঘটানো হলো? আমাদের ভয় দেখানোর জন্য। আমরা যাতে গণসংযোগে না যাই, আমরা যাতে সভা সমাবেশ না করি, আমরা যাতে ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকি, আমরা যাতে মানুষের কাছে না যাই।"
"ভয় দেখানোর জন্যই ওসমান হাদিকে টার্গেট করে গুলি করা হয়েছে হত্যার উদ্দেশে। এ ঘটনার বিচার আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হতে হবে। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত যারা, তাদের গ্রেফতার করতে হবে।"
রাশেদ খানের প্রশ্ন ছিল— যারা নির্বাচন করতে চান, তারা কোনোভাবেই নিরাপদ নন। তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
"আজকে ওসমান হাদিকে যেভাবে গুলি করা হযেছে, আমি এখানে দাঁড়িয়ে আছি কথা বলছি, আমাকেও তো টার্গেট করে গুলি করা হতে পারে। হতে পারে না?"
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দিকে আঙুল তুলে ১৬ মাসে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে না পারার জন্য প্রশ্ন তোলেন: "আপনারা কী করলেন? এই ১৬ মাসে কেন নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে পারলেন না?"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রায়শই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের ওপর হামলা, প্রতিপক্ষকে দমন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। ১৯৫০ সালের দশক থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, একদলীয় শাসন (যেমন ১৯৭৫ সালের বাকশাল) এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সরকারের আমলেও নির্বাচনকালীন সহিংসতা একটি বড় উদ্বেগের কারণ ছিল। রাশেদ খানের বক্তব্য মূলত এই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় প্রার্থীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি তুলে ধরে।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব ছিল একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরপরই একজন বিরোধী মঞ্চের মুখপাত্রের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনাটি সেই পরিবেশ তৈরি নিয়ে গভীর সন্দেহ ও প্রশ্ন তৈরি করল। রাশেদ খানের বক্তব্য সেই সন্দেহেরই প্রতিফলন— যে ক্ষমতাসীন দলের "দোসরদের নির্বাচনের সুযোগ দিলে" এ ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটবে।
১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী বাজারে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানের প্রতিক্রিয়া।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত তথ্য।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং নির্বাচনকালীন সহিংসতার প্রেক্ষাপট (গুগল অনুসন্ধান থেকে প্রাপ্ত)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |