প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা লায়লা ফিরোজ ও মেয়ে আফরোজা হত্যার ঘটনায় গৃহকর্মী আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে ঝালকাঠি থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ডিএমপি জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর গৃহকর্মীকে গ্রেফতারে পুলিশকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল, কারণ তার কোনো ছবি, এনআইডি, মোবাইল নম্বর বা পরিচয় সংশ্লিষ্ট বাসায় সংরক্ষিত ছিল না।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, মাত্র দুই হাজার টাকা চুরির অপবাদের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গৃহকর্মী আয়েশার কোনো ডিজিটাল তথ্য না থাকায় পুলিশকে 'ম্যানুয়াল' এবং সুদীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হয়:
১. ম্যানুয়াল ক্লু খোঁজা: ঘটনার আশেপাশে কোনো ডিজিটাল ক্লু না পেয়ে তদন্ত দল 'ম্যানুয়াল' উপায়ে থানায় গত এক বছরে গৃহকর্মীর মাধ্যমে সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলো খুঁজতে থাকে। ২. বর্ণনার ভিত্তিতে লক্ষ্য: নিহত আফরোজার স্বামীর দেওয়া বর্ণনা অনুসারে তদন্তকারীরা বিশেষভাবে লক্ষ্য করেন: গলায় পোড়া দাগ, জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বসবাস ও গৃহকর্মীর পরিচয়ে সংঘটিত পূর্বের চুরির তথ্য। ৩. মোবাইল নম্বর সন্ধান: পুরনো চুরির তথ্য ঘেঁটে হুমায়ুন রোডের একটি ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ থেকে একটি মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। ৪. ডিজিটাল ট্র্যাকিং: কল রেকর্ড বিশ্লেষণে ওই নম্বরের অবস্থান ধরে হেমায়েতপুরে গিয়ে জানা যায়, নম্বরটি ব্যবহার করতেন রাব্বি নামের এক ব্যক্তি, যিনি আয়েশার স্বামী এবং তারা আগে জেনেভা ক্যাম্পে থাকতেন। ৫. গ্রেফতার অভিযান: হেমায়েতপুরের বাসা তালাবদ্ধ থাকায় রাব্বির পরিবারের অন্য সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আশুলিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালীসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালায়। ৬. সর্বশেষ অবস্থান: সর্বশেষ, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার চরকায়া গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে পুলিশ আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে গ্রেফতার করে। এ সময় আয়েশার কাছ থেকে চুরি করা একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর নিহত লায়লা ফিরোজের স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় এই হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মোহাম্মদপুরের এই জোড়া হত্যাকাণ্ড এবং গৃহকর্মীর গ্রেফতারের ঘটনাটি বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে গৃহকর্মী নিয়োগের সময় পরিচয় যাচাই ও ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের গুরুত্বকে আবারও সামনে আনল। ১৯৯০ সালের পর থেকে দ্রুত নগরায়ণের ফলে গৃহকর্মী নির্ভরতা বাড়লেও, তাদের সঠিক পরিচয় সংরক্ষণের বিষয়ে অসচেতনতা প্রায়শই এমন অপরাধের পর তদন্তের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।
এই মামলায় ডিএমপির তদন্ত দল যেভাবে দীর্ঘ ও কঠিন ম্যানুয়াল তদন্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করেছে, তা পুলিশি তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। মাত্র দুই হাজার টাকা চুরির অপবাদে এমন নৃশংসতা এটাই প্রমাণ করে যে, সমাজে ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি বা অপবাদের পরিণতি কখনও কখনও কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
১. ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) প্রেস ব্রিফিং। ২. মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |